আশ্রয় সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত স্থগিত করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:৩৬ এএম | আপডেট: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:৩৬ এএম
ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের (ইউএসসিআইএস) পরিচালক জোসেফ এডলো।
শুক্রবার এক্স (আগের টুইটার)-এ পোস্ট করে এডলো জানান, ‘যতক্ষণ না আমরা নিশ্চিত হতে পারছি যে, প্রতিটি বিদেশিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই বিরতি চলবে।’ এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সব ‘থার্ড ওয়ার্ল্ড’ দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করতে চান।
ট্রাম্প বলেননি কোন কোন দেশ তার পরিকল্পনার আওতায় পড়বে। উভয় ঘোষণাই বুধবারের প্রাণঘাতী হামলার পর এসেছে এবং এগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নিয়ে আরো কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরছে। অন্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে ট্রাম্প অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অভিবাসীদের গণহারে বহিষ্কার, শরণার্থী গ্রহণের বার্ষিক সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রায় সকলের জন্য প্রযোজ্য স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের অধিকার বাতিলের চেষ্টা করেছেন।
দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একটি দপ্তর ইউএসসিআইএস-এর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন কোনো আশ্রয় আবেদন অনুমোদন, প্রত্যাখ্যান বা বন্ধ না করেন।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা আবেদন প্রক্রিয়ার কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে পৌঁছালে থামতে হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘একবার সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছালে, থামুন এবং স্থগিত রাখুন।’
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প আরো জানান, বুধবারের গুলির ঘটনায় আহত এক নারী ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মারা গেছেন। এই হামলার জন্য একজন আফগান নাগরিককে দায়ী করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, ওয়াশিংটন ডিসির গুলির ঘটনার সন্দেহভাজন রহমানুল্লাহ লাখানওয়াল ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তিনি এমন একটি কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, যার মাধ্যমে আফগানদের বিশেষ অভিবাসন সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। যারা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সঙ্গে কাজ করেছিলেন আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর, তাদের ওই সুবিধা দেওয়া হয়।
সিআইএ-এর বর্তমান পরিচালক জানিয়েছেন, লাখানওয়াল পূর্বে সংস্থাটির সঙ্গে কাজ করেছিলেন। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএন-কে বলেন, লাখানওয়ালকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় এবং সিআইএ-এর সঙ্গে কাজ শুরু করার সময়- উভয় পর্যায়েই যাচাই করা হয়েছিল।
লাখানওয়াল ২০২৪ সালে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর এ বছর তার আবেদন অনুমোদিত হয়েছিল বলে জানা গেছে। ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার করতে পারবে, যা অনেক আমেরিকানের অর্জন ও জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’
এদিকে বৃহস্পতিবার ইউএসসিআইএস জানায়, তারা ১৯টি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের দেওয়া গ্রিন কার্ড পুনঃপর্যালোচনা করবে। সংস্থাটি সরাসরি বুধবারের হামলার কথা উল্লেখ করেনি। বিবিসি জানতে চাইলে ইউএসসিআইএস হোয়াইট হাউসের জুন মাসের এক ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করেছে, যেখানে আফগানিস্তান, কিউবা, হাইতি, ইরান, সোমালিয়া ও ভেনেজুয়েলার নাম ছিল। পুনঃপর্যালোচনা কীভাবে হবে সে বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সূত্র : বিবিসি
আরও পড়ুন
- হংকংয়ে বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুনে নিহত ৪৪
- বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ শহর এখন ঢাকা, পথম জাকার্তা
- আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বোমা হামলায় নিহত ১০
- গত ২৪ ঘণ্টায় ভূমিকম্পে ৯১ বার কেঁপে উঠলো বিশ্ব
- লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডারসহ নিহত ৫
- যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ফের ইসরায়েলি বিমান হামলা, নিহত অন্তত ২৪
- ইসরায়েলের তুলনায় নিম্নমানের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাবে সৌদি আরব: রয়টার্স
- লেবাননের ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১৫