1. »
  2. জাতীয়

কোনো নাগরিক যেন সরকারি সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হন: প্রধানমন্ত্রী

রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ০৮:১৫ পিএম | আপডেট: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ০৮:১৫ পিএম

কোনো নাগরিক যেন সরকারি সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হন: প্রধানমন্ত্রী

নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের প্রতি সরকারি সেবা নিতে আসা কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দক্ষতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটাতে হবে। জনগণ সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে শুধু আদেশ-নির্দেশ নয়, মানবিক আচরণও প্রত্যাশা করে।

আজ রোববার (৮ নভেম্বর) সাভারে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) মিলনায়তনে ৮১তম ফাউন্ডেশন ট্রেনিং কোর্স বা বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। একাডেমিক জ্ঞান অর্জনের পর ব্যবহারিক জীবনে সেই জ্ঞান প্রয়োগের কলাকৌশল শিখেছেন। এখন সরকারি প্রশাসনে যার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হবে, অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে যথাযথভাবে তা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারি প্রশাসন যত বেশি দক্ষ হবে, সরকারের কার্যক্রমও তত বেশি সফল হবে। একটি সরকারের সার্বিক সফলতার জন্য দক্ষতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রশাসন অত্যন্ত জরুরি। এসব বৈশিষ্ট্য শুধু একজন কর্মকর্তাকেই সমৃদ্ধ করে না, রাষ্ট্র ও সরকারকেও সমৃদ্ধ করে।

নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে নবীন কর্মকর্তাদের কাছে তাঁর প্রত্যাশা, যেকোনো বয়সের কোনো নাগরিক সহযোগিতার জন্য সরকারি দপ্তরে এসে যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ইংরেজি একটি প্রবাদ উল্লেখ করে বলেন, ‘Treat others how you want to be treated’—অর্থাৎ, আপনি অন্যের কাছ থেকে যেমন আচরণ প্রত্যাশা করেন, অন্যের সঙ্গেও তেমন আচরণ করুন। নিজের প্রয়োজনে অন্যের কাছ থেকে যে ধরনের সহযোগিতা ও ব্যবহার আশা করেন, সেবা নিতে আসা নাগরিকদের সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ করতে হবে।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো নাগরিকের আবেদনপত্রে ভুল থাকলে তাঁকে শুধু ভুল সংশোধন করে আনতে বলাই যথেষ্ট নয়। বরং নির্দিষ্ট ভুলটি দেখিয়ে দিয়ে কোথায় এবং কার কাছে গেলে তা সংশোধন করা যাবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়াই হবে মানবিকতা ও আন্তরিকতার পরিচয়। জনগণ সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে শুধু নির্দেশনা নয়, সহযোগিতাপূর্ণ আচরণও প্রত্যাশা করে।

পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে পেশাগত সততার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনপ্রশাসনে হাজার হাজার পদ-পদবি রয়েছে। প্রতিটি পদই রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক সময় পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পদোন্নতির আশায় কেউ কেউ নিজেদের পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে আপস করেন। যেকোনো সময় দেশের যেকোনো স্থানে, জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাই প্রকৃত পেশাদারত্বের পরিচয়।

তিনি আরও বলেন, কোনো সরকারই চিরস্থায়ী নয়। জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্য স্থায়ী নয়। তাই ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি ব্যক্তিগত সমর্থন থাকাকে তিনি দোষের মনে করেন না। তবে সেই সমর্থনের প্রতিফলন ঘটতে হবে ব্যালট বাক্সে, সরকারি অফিসে নয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তবে এসব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই জনগণ ভোট দিয়ে সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের সামনে নির্বাচনী ইশতেহার দেওয়া হয়েছিল। জনগণ সেই ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। ফলে সেটি এখন জনগণের ইশতেহার ও জনগণের দলিল। এই ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে হবে।

সরকারি সেবাকে আরও সহজ ও নাগরিকবান্ধব করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা কমাতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে নবীন কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবেশ-প্রতিবেশের সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দিতে হবে। ঘরবাড়ি, অফিস-আদালতসহ চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

পরিশেষে নবীন কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সুখ, শান্তি, স্বাচ্ছন্দ্য ও সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।