নেতানিয়াহু নন, ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন আইজেনকট
রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:২৯ এএম | আপডেট: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:২৯ এএম
ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পেছনে ফেলে নতুন সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ পাচ্ছেন তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিরোধী দল ইয়াশার পার্টির এই নেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রোববার (৮ নভেম্বর) জেরুজালেমে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকটের জন্য এটি নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার বড় সুযোগ।
এরা আগে শনিবার (৭ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে আইজেনকটকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের সম্ভাবনা যাচাই করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট হারজগ।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬৭ জন আইনপ্রণেতা আইজেনকটের পক্ষে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে সুপারিশ করেছেন ৪৬ জন। সাত সদস্যের একটি দল কাউকেই সুপারিশ করেনি।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন।
নির্বাচনে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন চার দলের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। দেশটির আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন।
আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে আইজেনকটের পক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব। তবে আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করবেন না বলে আগেই জানিয়েছেন তিনি। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণ এখনো জটিল।
নিয়ম অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য আইজেনকট প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট আরও ১৪ দিন সময় বাড়াতে পারবেন।
এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জোট গঠন এবং মন্ত্রিসভার পদ বণ্টন নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে তাঁকে।
আইজেনকট ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো আইনপ্রণেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে পারবেন। তিনিও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের সদস্যরা বিকল্প প্রার্থী মনোনীত করতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত কেউ সরকার গঠনে সক্ষম না হলে দেশটিতে নতুন নির্বাচনের পথ তৈরি হবে।
লিকুদ পার্টির নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলের দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রীদের একজন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। পরে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আবারও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।
অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট এবার নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
তবে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সুপারিশ পেলেও বাস্তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ জনের সমর্থন ধরে রাখা এবং জোটের দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দূর করাই হবে তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন
- পোল্যান্ডে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ৯, আহত অন্তত ১৬
- ইরানে একাধিক বিস্ফোরণ, দুই তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন
- হুথিদের ৪৪০ যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করার দাবি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর
- জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও ইরান যুদ্ধ বন্ধে কাজ করবে ডেমোক্র্যাটরা : শুমার
- রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প
- মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ট্রাম্পের দল, ফিরছে ডেমোক্র্যাটরা
- যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক এলাকায় প্রাইভেট জেট বিধ্বস্ত, নিহত ৯
- অর্ণবের পর নতুন ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, সরানো হচ্ছে উপকূলের মানুষ