২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বারোপ তারেক রহমানের
মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে সারাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে: প্রধানমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৫৬ পিএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৫৬ পিএম
মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন সম্পন্ন হলে শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল নয়, বরং পুরো দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড, কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে এসব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। এর সুফল ছড়িয়ে পড়বে সারাদেশে।
তিনি বলেন, কোনো প্রকল্পের সাফল্য শুধু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করে না। বন্দরসেবার মান কতটা উন্নত হলো, পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কতটা কমল, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কতটা বাড়ল এবং পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত থাকল—এসব বিষয়ই প্রকৃত সাফল্যের মানদণ্ড।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক বন্দর পরিচালনায় পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য ড্রেজিংয়ের পলি ব্যবস্থাপনা, তেল নিঃসরণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজের বর্জ্য নিরাপদে অপসারণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি বিপজ্জনক পণ্য ব্যবস্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা, প্রশিক্ষিত জনবল ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, তৈরি পোশাকশিল্পের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন শিল্প খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনে আন্তর্জাতিক অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, সহজ সেবা প্রক্রিয়া, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ জন্য বন্দরের নাব্যতা, নৌ-চ্যানেলের নির্ভরযোগ্যতা, জাহাজের নিরাপদ চলাচল এবং প্রতিযোগিতামূলক বন্দরসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে মোংলা বন্দরকে আকর্ষণীয় করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উপযুক্ত বাণিজ্যিক ও পরিচালনাগত পরিবেশ নিশ্চিত করে বন্দরটিকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ ‘ফার্স্ট কলিং পোর্ট’ হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মোংলা বন্দরকে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বন্দরকে ঘিরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করতে হবে।
এ লক্ষ্যে পঞ্চগড় থেকে মোংলা পর্যন্ত চার লেনের সমন্বিত সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা, বন্দরের সরবরাহব্যবস্থা ও পণ্য পরিবহন সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, মোংলা বন্দর, মোংলা ইপিজেড, চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগ ও সরবরাহব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোংলা বন্দর জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির পাশাপাশি দেশীয় পণ্য রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দেশের আরেকটি কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক বন্দর হিসেবে মোংলাকে গড়ে তোলা গেলে জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আস্থা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
আরও পড়ুন
- মোংলা বন্দরে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- মোংলায় আরও শিল্পকারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
- প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
- দীর্ঘ বিরতির পর সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু
- বাগেরহাটের মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা শুরু
- পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শুরু
- জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী