1. »
  2. আন্তর্জাতিক

রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০১:২২ পিএম | আপডেট: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০১:২২ পিএম

রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির আসন হারানোর পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপের গুরুত্ব ভোটাররা বুঝতে পেরেছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি এর একটি অংশ ছিল ইরান। তবে একই সঙ্গে মানুষ ইরানের সঙ্গে আমি যা করেছি, তার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে। ঐতিহাসিকভাবে এটি আজকের সন্ধ্যার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে। কারণ, আপনি এক নম্বর সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দিতে পারেন না।’

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভোটারদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন ছিল।

এ ইস্যুতে ট্রাম্পের সমর্থক শিবিরের মধ্যেও মতপার্থক্য দেখা যায়। এমনকি রক্ষণশীল ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের মতো ব্যক্তিরাও ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশাসনের অবস্থানের সমালোচনা করেন।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ফক্স নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি কিছুটা অবাক হয়েছি। আমি ভেবেছিলাম তারা আরও ভালো করবে।’

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা ৫২টি আসন নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদেও দলটি ১৯৩টি আসনে জয় পেয়েছে। ফলে নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছে তারা।

নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশাল সমাবেশ ছিল। আমাদের প্রায় ৩০টি সমাবেশ ছিল। ভেতরে তো জায়গা ছিলই না, বাইরে হাজার হাজার মানুষ ছিল যারা ঢুকতে পারেনি।’

ট্রাম্পের প্রত্যাশা ছিল, তাঁর সমাবেশে অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক মানুষ রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষেও ভোট দেবেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আমি সেই মানুষগুলোকে প্রার্থীদের দিকে স্থানান্তরিত করতে পারব।’

কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থীর জয়ের কথা উল্লেখ করলেও সাউথ ক্যারোলাইনায় ডারলিন গ্রাহামের পরাজয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। প্রয়াত লিন্ডসে গ্রাহামের বোন ডারলিনের প্রতি নির্বাচনের আগে সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ডারলিনের জন্য তাঁর খারাপ লাগছে। কারণ, তাঁকে একই সঙ্গে শোক পালন এবং নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে হয়েছে।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্যেও পরিবর্তন দেখা গেছে। শুরুতে তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি নিজে ব্যালটে থাকলে রিপাবলিকানরা ভূমিধস জয় পেত। হোয়াইট হাউস থেকেও একই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। পরে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন।

এদিকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে প্রশাসনের বাকি দুই বছরের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালনা করবেন, সে বিষয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেছেন, নিজেকে ‘মি. ভিটো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং তাঁর কাছে পাঠানো প্রতিটি আইন বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভোট গণনার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভিটো’ লেখা একটি লাল টুপির ছবিও প্রকাশ করেন তিনি।

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠিত হলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়নে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।