1. »
  2. জাতীয়

সওজের ৪০০ স্থাপনায় বসবে সৌর প্যানেল, লক্ষ্য ৫ হাজার ১৪৪ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন

রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৪৫ এএম | আপডেট: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৪৫ এএম

সওজের ৪০০ স্থাপনায় বসবে সৌর প্যানেল, লক্ষ্য ৫ হাজার ১৪৪ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন

সরকারি স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) চার শতাধিক স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত চার ধাপে এসব স্থাপনা ও অধিদপ্তরের অব্যবহৃত জায়গায় মোট ৫ হাজার ১৪৪ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি কার্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো, জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে চায় সওজ। পাশাপাশি দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও ভূমিকা রাখবে এ কার্যক্রম।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভবনের ছাদ ও অব্যবহৃত জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে সওজের বিভিন্ন স্থাপনায় ৪১০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

প্রধান প্রকৌশলী বলেন, চলতি অর্থবছরে ২৮৪ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে দরপত্র আহ্বায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৯৬০ কিলোওয়াট সক্ষমতার ব্যবস্থা স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

সওজের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ২৪৪ কিলোওয়াট, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াট, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াট এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ১ হাজার ৫০০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। চার অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা মিলিয়ে মোট সক্ষমতা দাঁড়াবে ৫ হাজার ১৪৪ কিলোওয়াট।

এ পরিকল্পনায় ভবনের ছাদের পাশাপাশি অধিদপ্তরের অব্যবহৃত খালি জায়গাও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগানোর কথা রয়েছে। এসব জায়গায় বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে।

মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সরকারি ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল বসানো গেলে নতুন করে জমি ব্যবহারের প্রয়োজন ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে ব্যবহার করা গেলে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার প্রয়োজন কমবে। এতে ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দক্ষতাও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে যেসব স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ বাসসকে বলেন, বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে রূপান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো ২০৫০ সালের মধ্যে নিট-শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখবে। এ ক্ষেত্রে সওজের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

স্রেডার প্রকাশিত নীতিগত তথ্য অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫-এ ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ভবনের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সওজের মতো বড় সরকারি অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ভবন ও অব্যবহৃত জায়গা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগানো গেলে বিদ্যুতের একটি অংশ নিজস্ব ব্যবস্থায় উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে দিনের বেলায় কার্যালয়ের চাহিদার কিছু অংশ পূরণের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা মিলবে।

তবে এ উদ্যোগের সুফল নির্ভর করবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার কার্যকর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, উৎপাদিত বিদ্যুতের যথাযথ ব্যবহার এবং গ্রিডের সঙ্গে সংযোগের ওপর। পাশাপাশি কোন স্থাপনায় কত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, কতটা নিজস্ব ব্যবহারে যাচ্ছে এবং এতে কত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে—এসব তথ্য নিয়মিত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সরকারি অবকাঠামো ব্যবহার করে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের পরিধি বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয় ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সূত্র : বাসস