ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত, গ্রেপ্তার ১,২৬০
শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২৮ এএম | আপডেট: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২৮ এএম
শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের আন্দোলন এক মাস পেরিয়েও অব্যাহত রয়েছে। এ আন্দোলনে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রাজধানী প্যারিস ও আশপাশের এলাকায় ১ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ৮৬ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীরা শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। প্যারিস, মার্সেই ও লিওঁর বেশ কয়েকটি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো অবরোধ কর্মসূচি চলছে।
দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে জানিয়েছেন, ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ২০০টি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা এখনো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, বিক্ষোভ এখন আর শুধু শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি ‘শহুরে সহিংসতার আন্দোলনে’ রূপ নিয়েছে। প্যারিসসহ বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার মতো আহ্বানেরও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
লেকর্নু জানান, স্কুল ভবন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে বিক্ষোভের শেষ পর্যায়ে ঘটে যাওয়া সহিংসতার সমালোচনা করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে জানিয়েছেন, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সরকারি অনলাইন ব্যবস্থা ‘পারকুরসুপ’-এর মাধ্যমে পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে সরকার। অক্টোবরের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের গ্রাদিগনান এলাকার একটি উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে, তবে আপাতত আমরা এ নিয়ে কাজ করছি।’
জেফ্রে আরও জানান, সরকার যে ৩ হাজার বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাঁদের দুই-তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গ্রাদিগনান এলাকায় বিশেষ সমস্যায় থাকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৪টি থেকে কমে ৪৭টিতে দাঁড়িয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, শরতের ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস শুরু হলে কোনো উচ্চ বিদ্যালয় আর ‘রেড জোন’ বা ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকবে না।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর এক বৈঠকে ‘লে লিসিয়েনস!’ ও ‘ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসিয়েন’-এর মতো শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে প্যারিসের পশ্চিমে জুই-এন-জোসা এলাকায় অবস্থিত ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এইচইসি প্যারিসেও। সেখানে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন শুরুর পর এই প্রথম প্রতিষ্ঠানটিতে এমন বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, লিওঁ শহরের প্রশাসন বৃহস্পতিবার সকালে নির্ধারিত একটি শিক্ষার্থী বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে। আগের বিক্ষোভগুলোতে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার আশঙ্কাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় এক মাস ধরে চলা আন্দোলনে প্যারিস মহানগর এলাকায় ১ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের ৮৬ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
পুলিশের দেওয়া হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে ২৮৬ জন পুলিশ ও আধাসামরিক পুলিশ সদস্য এবং শিক্ষা বিভাগের ১৩ জন কর্মী আহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সহিংসতা বারবার ঘটছে এবং এর তীব্রতা বাড়ছে।’ গত ১৩ অক্টোবরের বিক্ষোভে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর ৭১ জন সদস্য আহত হন বলেও জানান তিনি।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে অপর্যাপ্ত শিক্ষক, দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাস এবং শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকার প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তা রাজধানীর শহরতলি ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষাব্যবস্থার এসব সমস্যা সমাধানের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখনো চলমান থাকায় দেশটির শিক্ষা ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
আরও পড়ুন
- রমুজে মাইনের আঘাতে তেলবাহী জাহাজে আগুন
- ভারতে ‘বাংলাদেশের আদলে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র’ চলছে: রাজনাথ সিং
- ইয়েমেনে প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেসে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২
- যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলা, ৩ শিশুসহ নিহত ৪
- পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২০ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
- হরমুজ প্রণালিতে ২৪ ঘণ্টায় ডুবল দুই বাণিজ্যিক জাহাজ
- নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের মামলা
- সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি ভবনে হুতিদের হামলা