1. »
  2. খেলার মাঠ

কান্না, করতালি আর ভালোবাসায় মেসির আর্জেন্টিনা-অধ্যায়ের শেষ

বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫৪ এএম | আপডেট: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫৪ এএম

কান্না, করতালি আর ভালোবাসায় মেসির আর্জেন্টিনা-অধ্যায়ের শেষ

আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির ২১ বছরের পথচলা শেষ হলো এক আবেগঘন রাতে। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচে মাঠে নামার আগে থেকেই বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। জাতীয় সংগীতের সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি তিনি। গ্যালারিভর্তি দর্শকের ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন কখনো হাসিতে, কখনো চোখের জলে।

২০০৫ সালের আগস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল মেসির। এরপর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দলটির ১০ নম্বর জার্সি তাঁর নামের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য হয়ে ওঠে। এই দীর্ঘ সময়ে ব্যর্থতার হতাশা যেমন এসেছে, তেমনি বিশ্বকাপসহ একাধিক শিরোপার আনন্দও পেয়েছেন তিনি।

বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি শুরুর আগেই মেসিকে ঘিরে আবেগের ঢেউ ওঠে মনুমেন্তালে। ওয়ার্ম-আপের জন্য মাঠে প্রবেশ করে দুই হাত তুলে গ্যালারির দিকে অভিবাদন জানান তিনি। মুহূর্তেই করতালিতে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম।

একাদশ ঘোষণার সময় মেসির নাম আসতেই গর্জে ওঠে হাজারো দর্শক। শেষবারের মতো তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ও সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে। ১০ নম্বর জার্সি পরা মেসি তখনও আবেগ ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন।

জাতীয় সংগীতের সময় সেই আবেগ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সতীর্থদের পাশাপাশি কোচ লিওনেল স্কালোনির চোখেও ছিল পানি। মাথা উঁচু করে সামনে তাকিয়ে মেসি নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করলেও চোখের কোণের জল লুকাতে পারেননি।

ম্যাচ চলাকালেও তাঁকে ঘিরে তৈরি হয় বিশেষ মুহূর্ত। প্রথমার্ধের ১০ মিনিটের মাথায় খেলা থেমে গেলে বেনিনের কয়েকজন খেলোয়াড় এগিয়ে এসে মেসিকে শুভেচ্ছা জানান। পুরো মনুমেন্তাল তখন দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে বিদায় জানায় নিজেদের প্রিয় অধিনায়ককে।

স্টেডিয়ামে আসার পথেও মেসিকে ঘিরে ছিল সমর্থকদের উন্মাদনা। অনুশীলন কমপ্লেক্স থেকে মনুমেন্তালের পথে রাস্তায় নেমে আসেন হাজারো ভক্ত। বাসের ভেতর থেকে সেই ভালোবাসার দৃশ্য দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। কাঁদতে কাঁদতে সমর্থকদের দিকে হাত নেড়ে ভালোবাসার জবাব দেন তিনি।

মেসির পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন গ্যালারিতে। বিশেষ জার্সি পরে সতীর্থদের সঙ্গে ওয়ার্ম-আপের সময় দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন তিনি।

বিদায়ী ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে আর্জেন্টিনার মানুষের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় মেসি বলেন, ‘আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি। আমি সবকিছু দিয়ে চেষ্টা করেছি।’

আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির গল্প তাই শুধু একটি বিদায়ী ম্যাচে এসে থামল না; শেষ হলো এক প্রজন্মের ফুটবল-স্বপ্নের দীর্ঘ অধ্যায়। যে জার্সিতে একসময় ব্যর্থতার ভারে কেঁদেছেন, সেই জার্সিতেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের পূর্ণতা পেয়েছেন তিনি। এবার সেই জার্সি থেকে বিদায় নিলেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসের অন্যতম বড় তারকা।