1. »
  2. সমগ্র দেশ

সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে মালয়েশিয়াগামী ৬৫ যাত্রী উদ্ধার, আটক ১১ পাচারকারী

শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২৩ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২৩ এএম

সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে মালয়েশিয়াগামী ৬৫ যাত্রী উদ্ধার, আটক ১১ পাচারকারী

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় অভিযান চালিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। একই অভিযানে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নামে প্রতারণার শিকার ৬৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিয়মিত টহলের সময় এ অভিযান চালানো হয়।

নৌবাহিনী জানিয়েছে, সেন্ট মার্টিন লাইট হাউজ থেকে প্রায় ৮১ মাইল দূরে সমুদ্রে একটি মাছ ধরার বোটের নজরে আসে ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় ভাসতে থাকা কাঠের একটি বোট। বোটটির কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি নৌবাহিনীকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে ওই এলাকায় টহলরত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোটটি উদ্ধার করে। এ সময় বোটটিতে পানি ঢুকছিল। নৌসদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পরে বোটে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খাবার ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জনকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তাদের আটক করা হয়েছে। বাকি ৬৫ জন মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে নৌবাহিনী জানিয়েছে।

নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা অপহরণ করে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রেখেছিল। পরে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে নেওয়া হচ্ছিল। বোটটি অবৈধভাবে সমুদ্রপথে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

আটক ব্যক্তিদের এবং জব্দ করা বোটটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

নৌবাহিনী বলছে, বোটটির ইঞ্জিন ও পানি নিষ্কাশন পাম্প বিকল হয়ে যাওয়ায় ভেতরে পানি ঢুকছিল। ফলে বোটে থাকা ব্যক্তিদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। সময়মতো অভিযান পরিচালনা করায় সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানব পাচার, চোরাচালানসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।