1. »
  2. খেলার মাঠ

পাকিস্তানের কাছে হেরে বাংলাদেশের ফাইনাল স্বপ্নভঙ্গ

বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৪৪ এএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৪৪ এএম

পাকিস্তানের কাছে হেরে বাংলাদেশের ফাইনাল স্বপ্নভঙ্গ

আসরের প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে ১৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১১১ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৯ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের হয়ে একাই লড়েছেন তাওহীদ হৃদয়। শুরুতে কিছুটা সম্ভাবনা দেখালেও দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে আরাফাত মিনহাসের বলে ছক্কা হাঁকানোর পরই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৭ রান।

পরের ওভারে সাইম আইয়ুবের বলে রিভার্স করতে গিয়ে বোল্ড হন লিটন কুমার দাস। ৩ বলে করেন ২ রান। এরপর মিনহাসের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচে পরিণত হন পারভেজ হোসেন ইমন। তাঁর সংগ্রহ ৪ বলে ১ রান।

একটি চার ও দুটি ছক্কায় ভালো শুরুর আভাস দেওয়া সাইফ হাসানও ইনিংস বড় করতে পারেননি। এলবিডব্লিউ হয়ে ১৭ বলে ১৯ রান করে ফেরেন তিনি। এতে ৪৫ রানেই ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন তাওহীদ হৃদয়। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ৩০ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন তিনি। ২ চার ও ৪ ছক্কায় ২৩ বলে ৪২ রান করেন হৃদয়। মোসাদ্দেক ১৬ বলে করেন ১১ রান। শেষ দিকে শেখ মেহেদীর ৪ বলে ৮ রানে ১১১ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে মুকিম ২৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। আরাফাত মিনহাস ২৩ রানে শিকার করেন ২ উইকেট। তবে অতিরিক্ত রানও কম দেয়নি পাকিস্তান—বাংলাদেশ পেয়েছে মোট ১৯ রান।

রান তাড়ায় পাকিস্তানও শুরুতে স্বস্তিতে ছিল না। প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে ১ রানে ফিরিয়ে দেন শেখ মেহেদী। পরের ওভারে মাজ সাদাকাতকে ১৫ রানে আউট করেন নাসুম আহমেদ।

চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম তিন বলে ছক্কা, চার ও চার হজম করেন মোস্তাফিজুর রহমান। তবে শেষ বলে সাইম আইয়ুবকে ২১ রানে ফিরিয়ে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। এরপর উসমান খানকে ১৪ রানে ফেরান রিশাদ হোসেন।

৫৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে পাকিস্তান। কিন্তু এরপর আর কোনো সুযোগ দেয়নি তারা। হাসান নাওয়াজ ও আব্দুল সামাদ মিলে ৩২ বলে ৫৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

সামাদ ৫ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। নাওয়াজ ২২ বলে করেন ২৭ রান।

বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদী কার্যকর বোলিং করলেও মোস্তাফিজুর রহমান ও নাসুম আহমেদ ছিলেন বেশ খরুচে। ২ ওভারে ৪১ রান দেন মোস্তাফিজ। নাসুম ৩ ওভারে খরচ করেন ৩৩ রান। এই দুই বোলারের ৫ ওভার থেকেই ৭৪ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় পাকিস্তান।

এই জয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। অন্যদিকে বাংলাদেশকে এখন তৃতীয় স্থান তথা ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে খেলতে হবে।