ফেনীর পথে প্রধানমন্ত্রী, দিনভর থাকছে নানা কর্মসূচি
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৩ এএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৩ এএম
ফেনীর পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ফেনীতে এটি তাঁর প্রথম সফর। সফরে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।
সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছাবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।
এরপর ফেনীর তিন উপজেলার সরকারি কার্যালয়ের ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ‘রুফটপ সোলার’ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের এই কার্যক্রমও সফরের অন্যতম কর্মসূচি।
দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর দেড়টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণে পৌঁছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
পরে দুপুর ২টার দিকে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি।
বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে বিকেল ৫টার দিকে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে ফেনী ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। রাত ৯টার দিকে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরকে ঘিরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা ফেনীতে অবস্থান করছেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফরে ফেনীর পানি ব্যবস্থাপনা ও নদী-খাল পুনঃখননে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন, মুহুরী ও কহুয়া নদী ঘিরে প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গত জুনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয়েছে।
‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ নামের প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ, নদী পুনঃখনন ও সেচ অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও সোনাগাজী উপজেলায় এসব অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্ষার কারণে এপ্রিল থেকে আগস্ট-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখননের কাজ বন্ধ ছিল। বর্ষা শেষ হওয়ায় আবারও এ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ফেনী থেকেই নতুন করে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু হবে।
তিনি জানান, চলতি বছর এরই মধ্যে ১১০টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। গত ছয় মাসে ৩৭৭ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ শেষ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।
অন্যদিকে, চলতি বছরের ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়। প্রথমে ১৪ উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম চালুর পর তিন ধাপে ৫৫ উপজেলায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। সরকার গঠনের ২১ দিনের মধ্যেই কর্মসূচিটি শুরু করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন
- আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস আজ
- যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে মুক্তি পেলেন কুষ্টিয়ার সেই স্কুলশিক্ষক
- ৫০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিলের ঘটনায় জিএম বরখাস্ত, মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ
- প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের সময়সূচি প্রকাশ
- সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধানে সংশোধনী আনতে চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও পেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার
- ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা