1. »
  2. আন্তর্জাতিক

দুই দশক পর পুরোপুরিভাবে ইরাক ছাড়ল মার্কিন সেনারা

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৯ এএম | আপডেট: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৯ এএম

দুই দশক পর পুরোপুরিভাবে ইরাক ছাড়ল মার্কিন সেনারা

দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ইরাক থেকে পুরোপুরি সরে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটিতে মার্কিন বাহিনীর যে উপস্থিতি ছিল, মঙ্গলবার শেষ সেনাদের বিদায়ের মধ্য দিয়ে তার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ঘিরে ইরাকে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। এ উপলক্ষে সরকার চার দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির কার্যালয় জানিয়েছে, বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হয়ে ১ অক্টোবর থেকে ইরাক নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।

তবে মার্কিন বাহিনীর বিদায়কে সবাই একইভাবে দেখছেন না। একদিকে এটিকে ইরাকের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে মার্কিন সেনাদের রেখে যাওয়া নিরাপত্তা শূন্যতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়া এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ঘুমন্ত সেলগুলো আবার সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২০২৪ সালের চুক্তির ভিত্তিতে প্রত্যাহার

২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদ মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক মিশন শেষ করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়। তখন ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ছিল। গত বছর তাদের বড় একটি অংশ প্রত্যাহার করা হয়। উত্তরাঞ্চলের কুর্দি এলাকায় অবশিষ্ট সেনাদেরও এবার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইরাকে মার্কিন সেনার উপস্থিতির সূচনা ২০০৩ সালের আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে। সে সময় প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ২০০৭ সালে দেশটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি হয়েছিল। ২০১১ সালে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হলেও ২০১৪ সালে আইএসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী আবার ইরাকে ফিরে আসে।

ইরানের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে ইরানে সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কিছু বিশ্লেষক। ইরাকে সক্রিয় এসব গোষ্ঠীর কয়েকটির সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিন ইরানে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্য তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল বলে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঘটনাও দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বাগদাদকে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আনার চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।

মার্কিন বাহিনী চলে গেলেও ওয়াশিংটন-ব্যাগদাদ সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। নিরাপত্তা সহযোগিতা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে দুই দেশের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে।

ফলে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকের সামনে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—বিদেশি সামরিক সহায়তা ছাড়া দেশটির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।