সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধানে সংশোধনী আনতে চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৩০ এএম | আপডেট: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৩০ এএম
সংবিধানে সংশোধনী আনার ক্ষেত্রে সব পক্ষের মতামত নিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক ও ‘ইনক্লুসিভ’ প্রস্তাব তৈরির কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার প্রস্তাব উঠে আসে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আলোচনার দ্বার সবার জন্য উন্মুক্ত। বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে প্রতিনিধি দেওয়ার পাশাপাশি আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই অংশগ্রহণমূলক ও ইনক্লুসিভ সংশোধনী আনার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সামাজিক শক্তি, সংগঠন ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। গত ১৭ বছরে গুম, খুন ও নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার এবং জীবিত ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করা হবে। একইভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে সমাজের চিত্র, মতামত ও পরামর্শ সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে। এরপর সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।
তিনি জানান, ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদে সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে। বিল উত্থাপনের পরও সংসদের ভেতরে-বাইরে আলোচনা ও মতামত নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এভাবে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী গ্রহণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি একক রাষ্ট্র হওয়ায় দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনার একটি মত এসেছে।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ একটি ‘ইউনিটারি ইন্ডিপেন্ডেন্ট সুভারেন রিপাবলিক’। এখানে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেই। এ কারণে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রয়োজন কি না, তা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব এসেছে। তবে জুলাই জাতীয় সনদে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এগোতে চান তারা।
বৈঠকে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীনতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়েও অতিথিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বৈঠকে যারা বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের মতামত রেকর্ড করা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন, এর প্রক্রিয়া ও কাঠামো নিয়ে আরও খোলামেলা আলোচনা এবং সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যে প্রস্তাবকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য মনে হবে, সংসদ তা বিবেচনা করবে এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন
- উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে ভূমিমন্ত্রী মিনুকে
- দাম্মাম রুটে বিমানের যাত্রা শুরু
- ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সাধারণ ছুটি ঘোষণা
- কাল খুলনা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- পানি সংকট নিরসনে দ্রুত পদ্মা-তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
- রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও মতবিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী