বিদায়ী ভাষণে যুদ্ধ বন্ধ ও এআই ঝুঁকি মোকাবিলায় জোর জাতিসংঘের মহাসচিবের
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০১ এএম | আপডেট: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০১ এএম
জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে সাধারণ পরিষদে শেষবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন অ্যান্তনিও গুতেরেস। বিদায়ী বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি মোকাবিলা, জলবায়ু সংকট এবং জাতিসংঘের সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এ ভাষণ দেন পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গুতেরেস।
আগামী ৩১ ডিসেম্বর তার দ্বিতীয় মেয়াদের পাঁচ বছর পূর্ণ হবে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক দশকের জাতিসংঘ নেতৃত্বেরও অবসান ঘটবে তার।
ভাষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈশ্বিক পর্যায়ে সমন্বিত তদারকির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন গুতেরেস। তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলোর উচিত এআই-সংক্রান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করা।
এআই পরীক্ষা ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য তদারকির আওতায় বহুপাক্ষিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
এআই নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক উদ্যোগের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন গুতেরেস। ২০২৩ সালে তার উদ্যোগে ৩৯ সদস্যের এআইবিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়। এতে বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদরা যুক্ত ছিলেন। একই বছর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করে।
বিদায়ী ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন গুতেরেস। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে হুতিদের অগ্রগতির কারণে নৌপথ হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি। বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে গুতেরেস বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ উন্মুক্ত করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে নৌচলাচলের স্বাধীনতাও পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের এক দশকের দায়িত্বকালে যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন, বিদায়ী ভাষণেও সেগুলো তুলে ধরেন গুতেরেস। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান, জলবায়ু সংকটে দূষণকারীদের দায় ও ক্ষতিপূরণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান জানান তিনি।
এ সময় জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংকটের কথাও তুলে ধরেন গুতেরেস। তার ভাষ্য, সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া এখন প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে। বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও অতীতের ক্ষমতার কাঠামো ও স্বার্থের বাস্তবতাকে ধারণ করে চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রায় ১৩০ জন বিশ্বনেতা উপস্থিত থাকলেও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও জার্মানির শীর্ষ নেতারা এতে অংশ নেননি।
গুতেরেসের প্রায় এক দশকের নেতৃত্বে জাতিসংঘকে সংঘাত নিরসনে আরও কার্যকর মধ্যস্থতাকারী এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ সময়ে বিভিন্ন পরাশক্তির জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে চলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল কমানোর মতো চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হয়েছে সংস্থাটিকে।
বিদায়ী ভাষণের শেষ পর্যায়ে গত ১০ বছর পাশে থাকা বিশ্বনেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান গুতেরেস। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে মহাসচিবের দায়িত্বে না থাকলেও শান্তি সম্ভব—এই বিশ্বাসের পক্ষে তিনি আজীবন কাজ করে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ সনদের মূল মূল্যবোধের পক্ষে তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন এবং কোনো পরিস্থিতিতেই হাল ছাড়বেন না।
আরও পড়ুন
- শর্তসাপেক্ষে হরমুজ প্রণালি খুলতে প্রস্তুত ইরান
- মার্কিন নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ, বাড়ছে সংঘাতের শঙ্কা
- ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও সীমা
- সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- রাশিয়ার ওপর ৫০০, ভারতসহ কয়েকটি দেশে ১০০ শতাংশ শুল্কের ক্ষমতা ট্রাম্পের
- সৌদি-হুথি পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ৫, তিনজনই শিশু
- হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলা
- যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত