সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত ৮২
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৫ এএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৫ এএম
সুদানে একটি সোনার খনি ধসে অন্তত ৮২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বেশ কয়েকজন আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ। বার্তা সংস্থা এএফপিও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে হতাহতের বিষয়টি জানিয়েছে।
এলাকাটি নিয়ন্ত্রণকারী আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) এক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন আটকা পড়ে আছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সীমিত ও সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার পশ্চিম কর্ডোফানের আল জারা সোনার খনির সুড়ঙ্গগুলো ধসে পড়তে শুরু করে। ওই সময় সেখানে কয়েক ডজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। রাতভর সহকর্মীদের সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালানোর পর বেঁচে যাওয়া শ্রমিক খাইর আল সাইয়েদ জাবারা জানান, বুধবার সকাল পর্যন্ত ৮২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, খনির ভেতরে আরও কতজন রয়েছেন, তা তারা জানেন না। জীবিত বা মৃত শ্রমিকদের উদ্ধারে সবাই চেষ্টা করছেন। তবে পাথর ও মাটি সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।
আরেক শ্রমিক আল আমিন সুলেইমান জানান, আল জারা খনির বিভিন্ন সুড়ঙ্গ একে অপরের খুব কাছাকাছি। একটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়লে পাশের সুড়ঙ্গগুলোতেও ধস নামার ঝুঁকি থাকে। এবারের দুর্ঘটনাতেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।
সুদানে সোনা উত্তোলনের বড় একটি অংশ হয় হাতে ও ছোট পরিসরে পরিচালিত অনিয়ন্ত্রিত খনিতে। অনেক খনি পুরনো ও পরিত্যক্ত হলেও জীবিকার আশায় তরুণ শ্রমিকেরা সেখানে কাজ করেন। এসব খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আধুনিক সরঞ্জামের ঘাটতি থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি।
খনিশ্রমিকেরা সাধারণত হাত ও অল্প কিছু সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাটি খুঁড়ে সোনা সংগ্রহ করেন। সোনা আলাদা করার কাজে সায়ানাইডের মতো বিপজ্জনক রাসায়নিকও ব্যবহৃত হয়। এতে শ্রমিকদের পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যও ঝুঁকিতে পড়ে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে সংঘাত চলছে। দেশটির সোনা বাণিজ্য থেকে দুই পক্ষের যুদ্ধের বড় একটি অংশের অর্থায়ন হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সুদান আফ্রিকার অন্যতম প্রধান সোনা উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির সরকারি হিসাবে, গত বছর ৭০ টন সোনা উৎপাদিত হয়েছে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, উৎপাদিত সোনার বড় অংশই সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে যায়।
সুদানের সোনা বাণিজ্য ও খনিতে ব্যবহৃত পারদ ও সায়ানাইডের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এসব রাসায়নিকের বিক্রি, হস্তান্তর ও রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য সুদানের সোনা বাণিজ্যকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞাও ঘোষণা করে।
আরও পড়ুন
- লস অ্যাঞ্জেলেসে ভবনের মাঝখানে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৩
- সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুথিরক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- জাভা সাগরে ২৪০ যাত্রীসহ জাহাজ নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান শুরু
- কঙ্গোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৯, বেশিরভাগই শিক্ষার্থী
- হরমুজে মার্কিন জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের হামলা
- মৃত ভেবে শোক, ১০ দিন পর নেপালের ধ্বংসস্তূপে জীবিত মিলল বৃদ্ধা
- হরমুজে জলযান প্রবেশে ইরানের নিষেধাজ্ঞা, দ্বিগুণ হচ্ছে পেট্রোলের দাম
- কেপ ভার্দে পাহাড়ি সড়ক থেকে বাস খাদে পড়ে নিহত ২৫