1. »
  2. জাতীয়

ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতসহ ধর্মীয় সেবকদের জন্য সরকারের নতুন উদ্যোগ

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৩৯ এএম | আপডেট: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৩৯ এএম

ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতসহ ধর্মীয় সেবকদের জন্য সরকারের নতুন উদ্যোগ

দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের জন্য আর্থিক সহায়তার নতুন কাঠামো তৈরি করেছে সরকার। মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন থেকে শুরু করে মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার কর্মীদের কল্যাণে সম্মানী, উৎসব ভাতা এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানী ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ জারি করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারীরা শুধু ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন; নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা তৈরি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও তারা ভূমিকা রাখেন। তাদের এই ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে সহায়তার আওতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিরাও সম্মানীর আওতায় আসবেন। ধর্মীয় উৎসবের সময় তাদের জন্য ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব সুবিধার পাশাপাশি কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিকল্প আয়ের পথ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

ফলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য শুধু তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা নয়, দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যও নেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

সরকারের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমানো গেলে তারা আরও নিশ্চিন্তভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একই সঙ্গে তাদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধও আরও শক্তিশালী হবে।

দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবকদের জন্য এ উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার একটি নতুন ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে সরকার।