আসিফ মাহমুদের অনিয়ম অনুসন্ধানে নথি চেয়ে দুদকের চিঠি
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:৫৫ পিএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:৫৫ পিএম
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ তার 'নেপথ্যের নায়ক' ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এজন্য আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে হওয়া নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত নথিপত্র এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ফাইল চেয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক
দুদকের বিশেষ তদন্ত বিভাগের মহাপরিচালকের নির্দেশনার পর মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়, এবং বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর তথ্য চেয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়।
দুদক সূত্র জানায়, আসিফ মাহমুদের পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে যুগ্মসচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ও যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদকে 'সেফ গার্ড' দিয়ে বহাল রাখারও অভিযোগ উঠেছে।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে, যাতে রয়েছেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও উপসহকারী পরিচালক রোমান উদ্দিন।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে হওয়া নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত নথিপত্র এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ফাইল চেয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব তথ্য পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
তলব করা নথির মধ্যে রয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ৭ মে এবং ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলের দুটি স্মারকমূলে বদলিসংক্রান্ত নথি, তিনটি স্মারকের অধীনে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান-বাতিল-পদায়নসংক্রান্ত নথি, এবং মাঠপর্যায়ের একাধিক সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথি। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ ও আমির; বগুড়ার আনিচ, জাহিদ ও ইব্রাহীম; বরিশালের জুলহাস; পাবনার নকিমউদ্দিন, আলী হোসেন ও আবু সাঈদ; ধামরাইয়ের কোরবান আলী এবং নরসিংদীর আলী হোসেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পছন্দের জায়গায় পদায়ন ও পদোন্নতি পাইয়ে দেওয়ার নামে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে নতুন পদায়নের বিনিময়ে ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে, যেখানে প্রতি কর্মকর্তার কাছ থেকে গড়ে প্রায় দুই লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য মোট এক কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পরে পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য আরও দুই কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে এই খাতে অভিযোগের অঙ্ক দাঁড়ায় চার কোটি ২৬ লাখ টাকা।
শুধু নিয়োগ-বদলি-পদোন্নতি নয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন কেনাকাটা ও টেন্ডার নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে গড়ে তোলা একটি 'সিন্ডিকেট'-এর মাধ্যমে বিভিন্ন টেন্ডার ও কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে, যা অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে।
এসবের বাইরে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, বিদেশে অর্থ পাচার, অবৈধ বিটকয়েন লেনদেন, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। ক্রীড়া উপদেষ্টা থাকাকালে ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ ও অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধানের পরিধিতে আসতে পারে বলে জানা গেছে, যেখানে তার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, পদোন্নতি, বদলি বাণিজ্য, পদায়নসহ বিভিন্ন অভিযোগে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
আরও পড়ুন
- শাহজালালে মালিকহীন ফ্লাইট থেকে ৯ কেজি সোনা জব্দ
- টাকার দ্বন্দ্বে ভাড়াটে খুনি দিয়ে স্ত্রীকে হত্যা, জামায়াত নেতা কারাগারে
- ভারতে পালিয়ে সেলফি হাদির ওপর হামলাকারীর
- মোহাম্মদপুরে চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
- ভেড়ামারায় কৃষককে গুলি করে হত্যা, আহত ১
- আইনশৃঙ্খলার অবনতি, খুলনায় বাড়ছে খুন, চাঁদাবাজি
- শুটিংয়ের কথা বলে রিসোর্টে নিয়ে ধর্ষণ, আটক ১৮
- সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান গ্রেপ্তার