নবম পে-স্কেলের অনুমোদন
সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৬:৪৪ পিএম | আপডেট: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৬:৪৪ পিএম
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল কাঙ্ক্ষিত নবম পে-স্কেলের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তিন ধাপে কার্যকর হবে নতুন এই বেতন কাঠামো। এতে গ্রেড-১-এ সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।
আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী সর্বনিম্ন ১০০ ও সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়বে, যা বাস্তবায়িত হবে তিন ধাপে। এর পাশাপাশি নবম পে-স্কেলের আওতায় প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা, যার আওতায় মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে গঠন করা হয় ১০ সদস্যের একটি কমিটি। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে এই কমিটিই নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া চূড়ান্ত করে।
অষ্টম জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের প্রায় এক যুগ পর, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন এই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল, যেখানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে বছরে ব্যয় হয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে, যা সরকারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি।
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেছিলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোয় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরা, এই সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে — এসব বিবেচনা করেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
- আগামী জানুয়ারিতে ইউপি নির্বাচন: ইসি মাছউদ
- জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান
- জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- মেধা ও যোগ্যতায় দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনলে স্বীকৃতি: প্রধানমন্ত্রী
- জনগণের চাহিদা অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করবে সরকার : আইনমন্ত্রী
- স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ২৬ মন্ত্রণালয়-সংস্থার সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ