1. »
  2. জাতীয়

ফ্যাসিস্ট আমলে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল: পানিসম্পদ মন্ত্রী

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৬:১৯ পিএম | আপডেট: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:২৭ পিএম

ফ্যাসিস্ট আমলে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল: পানিসম্পদ মন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে দুর্নীতি ও দুঃশাসন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, ক্ষমতায় এসেই দুর্নীতি সম্পূর্ণ নির্মূল করে ফেলা হবে—এমন প্রতিশ্রুতি তিনি দিচ্ছেন না, তবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ফেনীর পরশুরামে ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের একটি ধারা চলেছে। এখন জনগণ তাদের নির্বাচিত করেছে এবং তারা দায়িত্ব নিয়ে দেশ পরিচালনা করছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্সের ঘোষণা তিনি দিচ্ছেন না, তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকবে।

নিজেকে বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফেনীর এই প্রকল্পসহ দেশের সব প্রকল্প যথাযথভাবে সম্পন্ন করা, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা এবং নিজে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করা তাঁর ব্যক্তিগত দায়িত্বও বটে। প্রভাবশালীদের কোনো প্রভাব বা দুর্নীতির মাধ্যমে যেন প্রকল্পের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সজাগ থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

একনেকে অনুমোদিত মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রী জানান, জমি অধিগ্রহণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে কোনো জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই; দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিয়েই কাজ এগোবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধ ভাঙন ও বন্যার কবল থেকে মুহুরী-কহুয়া অববাহিকার মানুষ সুরক্ষা পাবেন বলে জানান তিনি।

আগামী মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী নিজে ফেনী গিয়ে প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করবেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান মন্ত্রী। ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার "মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)" অনুমোদন পায়। তবে বাস্তবায়ন কাজ এখনো শুরু হয়নি। প্রকল্পের আওতায় থাকবে ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ এবং সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এমএ খালেক, জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পাউবো ফেনী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নেতাকর্মীরা।