1. »
  2. আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ ও এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ফের বাড়তে পারে খাদ্যপণ্যের দাম: জাতিসংঘ

বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ পিএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ পিএম

যুদ্ধ ও এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ফের বাড়তে পারে খাদ্যপণ্যের দাম: জাতিসংঘ

বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম আবার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান ও ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এল নিনোর প্রভাব, যার ফলে খাদ্য উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে। 

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো টোরেরো রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ ছিল খাদ্যপণ্যের চড়া দাম। তবে চলতি বছর এখন পর্যন্ত এই বাজার তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে, এমনকি জ্বালানির উচ্চমূল্যজনিত মূল্যস্ফীতিও কিছু জায়গায় খাদ্যপণ্যের কম দামের কারণে সহনীয় থেকেছে। তবে এই স্বস্তি সাময়িক হতে পারে বলে মনে করছেন টোরেরো। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সারের সরবরাহ হ্রাস, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ডিজেল সংকট এবং চরম আবহাওয়ার প্রভাব একসঙ্গে যুক্ত হয়ে অচিরেই ভোক্তা পর্যায়ের দামে প্রভাব ফেলবে বলে তাঁর আশঙ্কা।

টোরেরো বলেন, পণ্যের দাম এখন থেকেই আরও দ্রুত বাড়তে শুরু করবে বলে তিনি ধারণা করছেন। বছরের শেষ নাগাদ খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করবে এবং আগামী বছর তা আরও বাড়বে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, পণ্যের দাম থেকে চূড়ান্ত ভোক্তা পর্যায়ের দামে এই প্রভাব পৌঁছাতে সাধারণত তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগে।

গম, ভুট্টা ও চালসহ কিছু পণ্যের দাম সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাড়লেও এখনো এসব দামে গত বছরের ভালো ফলনের প্রভাবই বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানান টোরেরো। আগামী বছরের সম্ভাব্য সংকট এখনো এই দামে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির সমস্যা কৃষিপণ্য উৎপাদনের সব উপকরণকেই প্রভাবিত করে, কারণ ব্রেন্ট তেল পাম্পিং, প্যাকেজিং, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহনে ব্যবহৃত হয়, আর প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয় সার উৎপাদনে। এদিকে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলার কারণে ডিজেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের রপ্তানি বাজারও সংকুচিত হয়ে আসছে।

পণ্যের দাম বৈশ্বিক হওয়ায় এর প্রভাব সব অঞ্চলেই পড়ছে বলে জানান টোরেরো। ধনী দেশগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকলেও কৃষকরা চাপে রয়েছেন—ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও এশিয়ায় একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে বলে তিনি জানান। মুনাফার হার কমে যাওয়ায় ফসল রোপণের সিদ্ধান্তেও এর প্রভাব পড়ছে। এমনকি কৃষি উপকরণে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রেও কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। মার্কিন কৃষি সংগঠন 'আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশন' জানিয়েছে, ফেডারেল সহায়তা না পেলে ২০২৭ সালে নয়টি প্রধান ফসল উৎপাদনকারী কৃষকদের ৩২ বিলিয়ন ডলার লোকসান হতে পারে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রথম তিন মাসেই বিশ্বজুড়ে গম ও ভুট্টার আবাদ কমে গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কৃষক সয়াবিন চাষে ঝুঁকেছেন, কারণ এতে সার কম প্রয়োজন হয়। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, জ্বালানি ও সারের চড়া দাম এবং উপকরণ সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে চলতি শীত মৌসুমে তাদের ফসল উৎপাদন ২১ শতাংশ কমে যেতে পারে।

এছাড়া চলতি বছরের এল নিনো বেশ শক্তিশালী হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন টোরেরো, যা বৃষ্টিপাতের ধরন উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দিতে পারে এবং কোটি কোটি মানুষকে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দিতে পারে। ভারতে বর্ষা ইতিমধ্যে দেরিতে এসেছে এবং চলতি মাসে গড়ের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশটির ধান উৎপাদনে বড় ধাক্কা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স