ইরান-ওমান আলোচনায় অগ্রগতি, বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫৭ এএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫৭ এএম
ইরান ও ওমানের মধ্যে চলমান আলোচনায় অগ্রগতির খবরে বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর সম্ভাবনা এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিনিয়োগকারীরা।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ০৮ ডলারে নেমেছে।
একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৫৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৬৯ ডলারে। এর আগের দিন ব্রেন্টের দাম সামান্য বাড়লেও ডব্লিউটিআইয়ের দাম কিছুটা কমেছিল।
নোমুরা সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ ইউকি তাকাশিমার মতে, ইরান-ওমান আলোচনার অগ্রগতির খবরে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে। গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির সময় যে দাম ছিল, বাজার প্রায় সেই অবস্থায় ফিরে এসেছে বলে তিনি জানান। দুই দেশ চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না, সেদিকেই এখন নজর বিনিয়োগকারীদের।
রয়টার্সকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও দুইজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তেজনা প্রশমনে ইরান-ওমানের মধ্যে একটি প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, যাতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে থাকার প্রস্তাব রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে ইরানের জন্য বড় কূটনৈতিক ছাড়।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক মন্তব্য না মিললেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর চুক্তি শিগগিরই হতে পারে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব তারা মানবেন না।
পাঁচটি সূত্র জানিয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরান সতর্ক করেছে—তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালালে অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোয় পাল্টা হামলা চালানো হবে, যার মাধ্যমে তেহরান ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ বাড়াতে চায়।
এদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী বুধবার দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলীয় বন্দর ইয়ানবুর কাছে ও এডেন উপসাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যদিও সৌদি আরব এখনও তা নিশ্চিত করেনি। তাকাশিমা বলেন, হুথিদের হামলার কারণে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল এখনও ঝুঁকিতে, ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নৌপরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার আশাবাদ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, শোধনাগারে তেল পরিশোধনের গতি কমা ও আমদানি বৃদ্ধির কারণে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়েছে। ৩১ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে মজুত ২৫ লাখ ব্যারেল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেলে—অথচ রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, ওই সপ্তাহে মজুত ১৫ লাখ ব্যারেল কমবে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন
- বিশ্বজুড়ে ভিসার সাক্ষাৎকার স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র
- সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি কংগ্রেসে পাঠালেন ট্রাম্প, শর্ত ইসরায়েল স্বীকৃতি
- কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে ৯ প্রাণহানি, হোটেল মালিক গ্রেপ্তার
- বঙ্গোপসাগরে কার্গো জাহাজ ডুবি, বাংলাদেশি নাবিকসহ নিখোঁজ ২২
- সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপে ইরান শেষ পর্যন্ত চুক্তি করতে বাধ্য হবে: ভ্যান্স
- হাসপাতালে থেকে ফের কারাগারে ইমরান খান
- নাইজেরিয়ায় নৌকাডুবিতে মৃত বেড়ে ৫০, বেশিরভাগই শিশু
- কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু