1. »
  2. সমগ্র দেশ

নওগাঁয় জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগুন

বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫২ এএম | আপডেট: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫২ এএম

নওগাঁয় জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগুন

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিউল হাসান দিপুর (৫০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী তার পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেন এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল থেকে বেলা পর্যন্ত চলা এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বদলগাছী উপজেলার আলফা কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শফিউল হাসান দিপুর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। 

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানে গেলে তাকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন প্রধান শিক্ষক। পরে শিক্ষার্থী কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে পরিবারকে ঘটনাটি জানায়।

পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তকে খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানালে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভান্ডারপুর বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ভান্ডারপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও ভান্ডারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একদল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী আলফা কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড মাদ্রাসায় আগুন দেয়। পরে তারা ভান্ডারপুর বাজারের চার রাস্তার মোড়ে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়, এতে কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।

খবর পেয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার আশ্বাস পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে যায়। অভিযুক্ত শফিউল হাসান দিপুর বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে ফিরে যেতে অনুরোধ করে। 

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।