1. »
  2. আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন করে মার্কিন শুল্ক আরোপ

শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬ ১০:৩১ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬ ১০:৩১ এএম

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন করে মার্কিন শুল্ক আরোপ

বাধ্যতামূলক শ্রমবিরোধী আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নীতির আওতায় দেশভেদে ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফেডারেল রেজিস্টার’-এ প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই শুল্কব্যবস্থা দেশটির মোট আমদানির প্রায় ৯৯.৪ শতাংশ পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে। একটি অস্থায়ী বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া ও মেক্সিকোর পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট হার দাঁড়াবে ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশে। এছাড়া চীনসহ আরও ৩৮টি দেশের পণ্যে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ‘পারস্পরিক শুল্ক’ বাতিল করলে ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক চালু করা হয়। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় নতুন এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা আইনি চ্যালেঞ্জে টিকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে সব পণ্য এই শুল্কের আওতায় পড়ছে না। তেল-গ্যাস, সার, কিছু খাদ্যপণ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামাসহ কিছু খাতকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইউএসএমসিএ চুক্তির আওতাভুক্ত পণ্যও শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল শুল্ক আরোপকে অন্যায্য বলে সমালোচনা করেছে। তবে কানাডা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই বাধ্যতামূলক শ্রম নিষিদ্ধ এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। তাই বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই মানদণ্ড অনুসরণ করা উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, মানবাধিকার ইস্যুর পাশাপাশি এই পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর বাণিজ্য কৌশলও কাজ করছে। বিশেষ করে চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুরদের শ্রম ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে আরও শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।