সব ডিলিট করে দেন, তাহলে সব বলছি, জামায়াত এমপির আরেক ভিডিও ভাইরাল
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৩ এএম | আপডেট: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৩ এএম
সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে আরেকটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। নতুন এই ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আবারও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ভিডিওটি নিয়ে নজরুল ইসলাম লিখিত এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত ফাঁদ এবং তাকে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এর আগে সোমবার রাতে তার এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। এর মধ্যেই মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নতুন ভিডিও সামনে আসে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ১ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ করে একটি কক্ষে ঢুকে নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এ সময় তাদের একজন জাতীয় সংসদের একটি আইডি কার্ড দেখিয়ে বলেন, ‘জামায়াতের লোক এখানে ধরা খেয়েছে।’ পরে ওই তরুণীর নাম জানতে চাইলে তিনি প্রথমে তা বলতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে চাপের মুখে তিনি বলেন, “সব ডিলিট করে দেন, তাহলে সব বলছি। আমার নাম মরিয়ম।”
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, উপস্থিত ব্যক্তিরা এমপির কাছে ওই তরুণীকে আগে কতবার এনেছেন—এমন প্রশ্ন করলে নজরুল ইসলাম বলেন, “আজই প্রথম।” কক্ষের ভাড়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি জানি না, ড্রাইভার জানে।” পরে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি তাকে ‘অন্যায় করেছেন’ বললে তিনি সেটি স্বীকারও করেন।
ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া বিবৃতিতে নজরুল ইসলাম বলেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম বেগম তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। তার দাবি, ঘটনাটি ১৩ জুলাই রাজধানীর মগবাজারে ঘটে।
তিনি আরও জানান, ওই দিন তিনি তার প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী ও গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে শ্বশুর মো. মাসুম বিল্লাহর অফিসে যান। সেখানে অবস্থানকালে চালক ওবায়দুল্লাহ পরিকল্পিতভাবে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে কক্ষে ঢুকতে সহায়তা করেন।
বিবৃতিতে এমপি অভিযোগ করেন, কক্ষে ঢুকে ওই ব্যক্তিরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং পরে নিচে নিয়ে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু টাকা দেওয়ার পর তারা সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে তিনি জানতে পারেন, পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী তার গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ, যিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা।
এছাড়া, পারিবারিক পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। নজরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা না পেয়ে সিসিটিভি ফুটেজ এডিট করে বিভ্রান্তিকর ভিডিও তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত অপপ্রচার’ আখ্যা দিয়ে তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত থেকেই সিসিটিভি ফুটেজ ও একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে এক তরুণীর সঙ্গে একটি কক্ষে দেখা যায়। তবে পুরো ঘটনাকে ঘিরে এমপি, তার পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।
ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়েই ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ওই তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, গত ১৭ জুন তার মেয়ের সঙ্গে এমপি নজরুল ইসলামের বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং ১৩ জুলাই তাদের অফিসে অবস্থানকালে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়।
পুরো ঘটনাটি এখনো বিতর্কিত অবস্থায় রয়েছে এবং বিভিন্ন পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
আরও পড়ুন
- ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ‘সরি, সরি’ বলে মঞ্চ ছাড়লেন এনসিপি নেতা
- বিলুপ্ত প্রজাতির গাছ বাচাঁতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বৃক্ষরোপণ
- মসজিদে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতের রাজনৈতিক সভা, এলাকাবাসীর নিন্দা
- বেইজিংয়ে বিএনপি-চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
- বিএনপি মিডিয়া সেলের নামে ভুয়া কমিটি, সতর্ক থাকার আহ্বান
- মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের অবস্থা স্থিতিশীল : আফরোজা আব্বাস
- ডিএসসিসি মেয়র পদে প্রার্থিতার ঘোষণা দিলেন নীলা ইসরাফিল
- ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের কমিটিতে সারোয়ার হোসেন