ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:১৯ পিএম | আপডেট: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:১৯ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ক্রমেই ঘনীভূত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আজ সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
গ্রিনিচ মান সময় বেলা ২টা ৪১ মিনিটে সেপ্টেম্বরে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট চুক্তির দাম ২ দশমিক শূন্য ৯ ডলার বা ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ১৯ ডলারে। গত ১১ জুনের পর এটাই সর্বোচ্চ দর।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার-মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৭১ ডলার বা ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ২০ ডলারে ওঠে, যা গত ১২ জুনের পর সর্বোচ্চ।
এই মূল্যবৃদ্ধি নতুন নয়—গত সপ্তাহেই ব্রেন্টের দাম বেড়েছিল প্রায় ১৬ শতাংশ, এপ্রিলের পর যা কোনো এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। প্রশ্ন উঠছে, যুদ্ধের প্রথম ধাপে যে দর ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, এবার তা ছাড়িয়ে যাবে কি না।
সংঘাতের নেপথ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে সাময়িক যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা ভেঙে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করলে ইরানও পাল্টা জবাব দিতে থাকে। গত সপ্তাহের শেষভাগে এই সংঘাত আরও তীব্র হয়—যুক্তরাষ্ট্র টানা নয় রাত ইরানে হামলা চালায়, আর যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুয়েত ও বাহরাইনও নতুন করে ইরানি হামলার মুখে পড়ে বলে জানানো হয়।
বাজার বিশ্লেষক সংস্থা আইএনজির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না—যে কারণে আজ সকালেই ব্রেন্টের দর ৯০ ডলার অতিক্রম করে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকদের ভাষ্য, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় দিকেই প্রাণহানি ঘটছে, আর উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে না এলে গোটা অঞ্চলে ব্যাপক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে এক 'অনিরাপদ' বিকল্প পথ ব্যবহারের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়া হয়েছে, আর এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে দায়ী করেছে সংস্থাটি—যদিও রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ দাবি যাচাই করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ইরানের বন্দরে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে; বিপরীতে ইরান জানিয়েছে, হরমুজে তাদের বেঁধে দেওয়া নিয়ম না মানা জাহাজেই তারা হামলা চালাচ্ছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে তেল বাণিজ্যের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগই পরিবাহিত হয় এই প্রণালি দিয়ে।
আজ ভোরে যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের কুমজার উপকূলের উত্তর-পশ্চিমে একটি জাহাজে আগুন লেগেছে। বার্কলেজের বিশ্লেষক অমরপ্রীত সিং বলছেন, নতুন করে আরোপিত দুই পক্ষের অবরোধের মধ্যে এই অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি কতটা টিকে থাকবে, তা স্পষ্ট হবে আগামী কয়েক দিনেই। তাঁর মতে, সরবরাহ-সংকটের প্রকৃত ঝুঁকিকে বাজার এখনো যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না, কারণ যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় তেলের মজুত এখন গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্য বলছে, গতকাল রোববার মাত্র চারটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যেখানে আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৮টি। তবে শুক্রবারের পর থেকে অন্তত তিনটি পরিশোধিত জ্বালানিবাহী ট্যাংকার ও একটি বড় জাহাজ তেল বোঝাইয়ের জন্য প্রণালিতে প্রবেশ করেছে।
উল্লেখ্য, তেলের দাম বাড়লে আমদানিনির্ভর দেশগুলোয় মূল্যস্ফীতি ও ডলার-সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। গত এপ্রিলে দাম ১০০ ডলার ছাড়ালে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানি রেশনিং করতে হয়েছিল, দেশের পাম্পগুলোতে দেখা গিয়েছিল দীর্ঘ সারি, বেড়ে গিয়েছিল লোডশেডিংও।
সূত্র: রয়টার্স