1. »
  2. খেলার মাঠ

অতিরিক্ত সময়ের ঝলকে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৬ এএম | আপডেট: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৬ এএম

অতিরিক্ত সময়ের ঝলকে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

দশজনের সুইজারল্যান্ডকেও ৯০ মিনিটে হারাতে পারেনি আর্জেন্টিনা—শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাওতারো মার্তিনেজের গোলে ৩-১ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। 

কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত এই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ শুরুর আগে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের হাতে ছিল কালো আর্মব্যান্ড—সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তি মিডফিল্ডার আন্তোনিও রাতিনকে স্মরণ করে। একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ ফুটবলার জেডেন অ্যাডামসের স্মরণেও পালিত হয় এক মিনিট নীরবতা।

ম্যাচের ১০ মিনিটেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মেসির কর্নার থেকে হেডে গোল করেন লিভারপুল মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার। পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি সুইজারল্যান্ড—৫০ মিনিটে একটি সহজ সুযোগ পেলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দুর্দান্ত ডিফেন্ডিং ও নিজেদের ফিনিশিং-ব্যর্থতায় গোলবঞ্চিত হয় তারা। তবে ৬৭ মিনিটে ঠিকই সমতা ফেরায় সুইসরা—রিকার্দো রদ্রিগেজের পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন ড্যান এনদোয়ে।

ম্যাচের মোড় ঘোরে ৭২ মিনিটে। ডাইভ দিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পাওয়ায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলো, যার ফলে তাঁর ফাউলের অভিযোগে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে দেখানো হলুদ কার্ডটিও বাতিল হয়ে যায়। দশজনের দল নিয়েও বাকি সময়টা দারুণ প্রতিরোধ গড়ে সুইজারল্যান্ড—নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেও ভাঙা যায়নি সুইস দুর্গ। অবশেষে ১১২ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক শটে জাল খুঁজে নেন হুলিয়ান আলভারেজ—সাম্প্রতিক ছন্দহীনতা ও একাদশে জায়গা নিয়ে ওঠা সব প্রশ্নের জবাব দেন এক গোলেই। এরপর যোগ করা সময়ে ব্যবধান ৩-১ করেন লাওতারো মার্তিনেজ, যা নিশ্চিত করে দেয় আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল যাত্রা।

এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। ম্যাচের আগে কোচ লিওনেল স্কালোনি একাদশে কোনো পরিবর্তন আনেননি—মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোয় খেলা একই একাদশ নিয়েই মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনার একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো দি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ।

সুইজারল্যান্ডের একাদশ: গ্রেগর কোবেল, দেনিস জাকারিয়া, নিকো এলভেদি, মানুয়েল আকাঞ্জি, রিকার্দো রদ্রিগেজ, রেমো ফ্রয়েলার, গ্রানিত জাকা, ফাবিয়ান রিডার, জিব্রিল সো, ড্যান এনদোয়ে, ব্রিল এমবোলো।

প্রসঙ্গ রাতিন: ম্যাচের আগে প্রয়াত হন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি মিডফিল্ডার আন্তোনিও রাতিন, মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর—তথ্যটি নিশ্চিত করেছে তাঁর সাবেক ক্লাব বোকা জুনিয়র্স। ১৯৬২ ও ১৯৬৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা রাতিনের ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিতর্কিত বহিষ্কারের ঘটনাই ফুটবলে বড় পরিবর্তনের সূচনা করে—সেই ঘটনার জেরে ১৯৭০ বিশ্বকাপ থেকে চালু হয় লাল ও হলুদ কার্ড।