1. »
  2. খেলার মাঠ

লাল কার্ড বিতর্কে মুখ খুললেন ফিফা সভাপতি

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬ ০৯:২২ পিএম | আপডেট: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬ ০৯:২২ পিএম

লাল কার্ড বিতর্কে মুখ খুললেন ফিফা সভাপতি

বিশ্বকাপের চলতি আসরে লাল কার্ড বিতর্ক এখন তুঙ্গে। অতীতে কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের কথায় নিজেদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। কিন্তু এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ফোনকলেই তা ঘটল বলে জানা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ট্রাম্প নিজে আগেই জানিয়েছিলেন যে তিনি ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন, আর সে কথা স্বীকার করে নেন ফিফা প্রধান। তবে তার দাবি, ট্রাম্পের ফোনের কোনো প্রভাব সিদ্ধান্ত গ্রহণে পড়েনি।

ফিফার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার নিয়মিত কথা হয়, তবে লাল কার্ডের সিদ্ধান্তে তার কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। তিনি জানান, ট্রাম্পকে স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন যে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটিই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, এখানে তার বা প্রেসিডেন্টের কারো হাত নেই।

বিবৃতিতে ইনফান্তিনো আরও বলেন, ফোলারিন বালোগুনের সাসপেনশন প্রত্যাহার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তিনি জানান, ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাদের মূল্যায়নে বালোগুনের প্রতি দেওয়া লাল কার্ডের শাস্তি কিছুটা কঠোর হয়ে গিয়েছিল, তাই তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এর আগে হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি ফিফাকে কেবল সিদ্ধান্তটি আরেকবার পর্যালোচনা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন, কারণ তার মনে হয়েছিল সেটি ফাউল ছিল না। সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো নির্দেশ তিনি দেননি বলে দাবি করেন। তার ভাষায়, দুই ফুটবলার জোরে দৌড়ে আসার সময় পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছিল মাত্র, এর বাইরে কোনো নিয়ম ভঙ্গ হয়নি।

এ ছাড়া ম্যাচ পরিচালনাকারী ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লসের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। তার অতীত রেকর্ড দেখলেই বিষয়টি বোঝা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি, যদিও এ নিয়ে বিতর্ক আর বাড়াতে চান না বলেও জানান।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে ফরাসি ডিফেন্ডার লরাঁ ব্লাঁ কার্ড সমস্যার কারণে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে পারেননি। একইভাবে ২০০২ বিশ্বকাপে জার্মান স্ট্রাইকার মাইকেল বালাকও একই কারণে ফাইনাল মিস করেন।

এর আগে কখনো কোনো দেশ ফিফার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ে ফোন করার নজির ছিল না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই হস্তক্ষেপে বিশ্বফুটবল ও ফিফার নিরপেক্ষতা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হলো। ইনফান্তিনো ট্রাম্পের পাশে দাঁড়ালেও এই বিতর্ক সহজে থামছে না।