বাংলা একাডেমিতে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে শেষ শ্রদ্ধা
সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:৫৩ পিএম | আপডেট: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:৫৩ পিএম
এক প্রজন্মের বাতিঘর নিভে গেল। বাংলা একাডেমির সভাপতি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও সমাজবিশ্লেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জানানো হলো শেষ শ্রদ্ধা।
আজ সোমবার সকালে তার মরদেহ একাডেমি চত্বরে আনা হলে সহকর্মী, শিক্ষার্থী, লেখক-সাহিত্যিক, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভিড় জমে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে কফিন।
বাংলা একাডেমি, জাতীয় কবিতা পরিষদ ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় তার কফিনে। এ ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন মনসুর মুসা, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, গবেষক সাইমন জাকারিয়া এবং কবি সরকার আমিনসহ সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের বহু বিশিষ্টজন।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বলেন, আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন এক অনন্য প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী, যিনি আমৃত্যু ছিলেন অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল ও স্বাধীনতাকামী দেশপ্রেমিক। দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় তার অবদানকে অবিস্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের শিক্ষক হিসেবে স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ছিলেন তার ছাত্র, আর পরবর্তীতে মন্ত্রী হওয়ার পরও সুযোগ পেলেই ছুটে যেতেন তার কাছে। তার ভাষায়, ফজলুল হকের পাশে বসে থাকাটা যেন এক শান্তিময় বটবৃক্ষের ছায়ায় আশ্রয় নেওয়া—যেখানে সবসময় উঠে আসত দেশ, মানুষ আর শোষিতের সংগ্রামের কথা।
আলোচনায় উঠে আসে ২০১৫ সালে উগ্রপন্থীদের হাতে খুন হওয়া তার একমাত্র ছেলে, জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপনের প্রসঙ্গও।
মন্ত্রী জানান, পুত্রহত্যার পরও প্রতিশোধ কিংবা প্রচলিত অর্থে রাষ্ট্রীয় বিচার—কোনোটিরই পথ বেছে নেননি ফজলুল হক। বরং তিনি বলেছিলেন, মানুষের দেশের জন্য তাকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন। এমন উদার ও আলোকিত মানুষ বিরল বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী, সঙ্গে জানান তার স্মৃতি সংরক্ষণে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের ভাষায়, ফজলুল হক ছিলেন এই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাবন্ধিক, চিন্তক ও সাহিত্যসমালোচক। সভাপতির দায়িত্বে থেকেও তিনি প্রায় প্রতিদিনই আসতেন একাডেমিতে—আনুষ্ঠানিক কাজ না থাকলেও বসতেন, লিখতেন, আলোচনা করতেন এবং একাডেমির কাজে দিতেন মূল্যবান পরামর্শ।
মোহাম্মদ আজম জানান, শিগগিরই তার স্মরণে আয়োজন করা হবে জাতীয় শোকসভা, পাশাপাশি তার জীবন-কর্ম-চিন্তা নিয়ে প্রকাশ করা হবে একটি স্মারকগ্রন্থ। তার মতে, সাহিত্যতত্ত্ব, রাষ্ট্রচিন্তা ও সমাজ নিয়ে আজীবন লেখা এই মানুষটির গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই হবে তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে, যাতে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। সেখান থেকে মরদেহ যাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে। দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় জানাজা, এরপর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে তাকে।
আরও পড়ুন
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার ২০২৫ ঘোষণা
- লালমনিহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, লাশ ভারতে
- এবারের বইমেলায় নতুন বইয়ের সংখ্যা ছাড়াল দেড় হাজার
- জাতীয় কবি কাজী নজরুলের নাতি বাবুল কাজী আর নেই
- না ফেরার দেশে কবি হেলাল হাফিজ
- ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’ গানের গীতিকার আবু জাফর আর নেই
- কাজী নজরুলকে জাতীয় কবি ঘোষণার গেজেট প্রকাশের অনুমোদন
- কবি মাকিদ হায়দার মারা গেছেন