1. »
  2. আন্তর্জাতিক
দুর্গন্ধ উপেক্ষা করে ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষায় স্বজনরা

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ১৯৪৩

বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৪ এএম | আপডেট: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৪ এএম

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ১৯৪৩

স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় হাজার হাজার ভবন ধসে পড়েছে। এতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত এক হাজার ৯৪৩ জনে, আহত হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকার। খবর ডয়েচে ভেলের।

ভূমিকম্পে দেশটির রাজধানী কারাকাস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিধ্বস্ত ভবনগুলোর নিচে এখনো চাপা পড়ে আছেন হাজার হাজার মানুষ, তবে সীমাবদ্ধতার কারণে প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ভবন ধসের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর থেকেই ধ্বংসস্তূপের চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে, যা এখন আরও তীব্র হচ্ছে। তারপরও যাদের প্রিয়জন ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে আছেন, তারা সেই দুর্গন্ধ উপেক্ষা করেই আশপাশে অবস্থান করছেন, খোঁজ পাওয়ার আশায়। তাদেরই একজন মিরেল্লা হেরেরা, যিনি ছেলের ধসে পড়া বাড়ির পাশে অপেক্ষা করছেন শুরুর দিন থেকে। 

সিএনএনকে তিনি বলেছেন, এই অপেক্ষা তাকে প্রায় বিপর্যস্ত করে ফেলছে, তবু নিজেকে সামলে রাখতে পানি খাচ্ছেন, হাঁটাহাঁটি করছেন এবং আটকে পড়াদের কথা ভাবছেন—তারাও হয়তো একইভাবে বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় আছেন।

ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জানান, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনো কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা প্রকাশিত স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক মূল্যায়নেও একই চিত্র উঠে এসেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের ও জ্যামন ভ্যান ডেন হোকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পরদিন অর্থাৎ ২৫ জুন সংগ্রহ করা স্যাটেলাইট রাডার তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষকরা এই বিশ্লেষণে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার উচ্চ রেজল্যুশনের রাডার-চিত্রগ্রহণকারী স্যাটেলাইট সেনটিনেল-১-এর তথ্য ব্যবহার করেছেন এবং জানিয়েছেন, এটি একটি প্রাথমিক ও দ্রুত মূল্যায়ন মাত্র।

তথ্য যাচাইয়ে প্রাপ্ত অসঙ্গতি: মূল কপিতে একই প্রতিবেদনের ভেতরে আহতের সংখ্যা নিয়ে দুই রকম তথ্য ছিল—একবার "১০ হাজারেরও বেশি", পরে এএফপির বরাতে "৫ হাজার ৩৪ জন"। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের (৩০ জুন পর্যন্ত হালনাগাদ) তথ্য অনুযায়ী প্রকৃত আহতের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি (প্রায় ১০,৫৭১ জন), তাই এই সংস্করণে সেই সংখ্যাটিই বহাল রাখা হয়েছে এবং "৫,০৩৪" সংখ্যাটি বাদ দেওয়া হয়েছে।