1. »
  2. জাতীয়
৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন

অবসরভাতা বিতরণ বোর্ডে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি : শিক্ষামন্ত্রী

রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬ ১২:৩৩ পিএম | আপডেট: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬ ১২:৩৩ পিএম

অবসরভাতা বিতরণ বোর্ডে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি : শিক্ষামন্ত্রী

বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে প্রায় ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

রোববার (২৮ জুন) সকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরে তিনি একথা বলেন। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছ প্রশ্ন রেখে বলেন, বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ অবসর গ্রহণের পর দীর্ঘদিন ধরে অবসরকালীন ভাতাদি না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি জানতে চান, অবসর প্রাপ্তির ৩ মাস থেকে ৬ মাসের মধ্যে অবসরকালীন ভাতাদি পাওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ সুবিধা দ্রুত প্রদানের বিষয়ে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে প্রায় ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। একজন শিক্ষক-কর্মচারী গড়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকা অবসর ভাতা পেয়ে থাকেন। এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রায় ৮,৭১০ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও বর্তমানে অবসর তহবিলে জমা রয়েছে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকা। ফলে প্রায় ৭,৪১০ কোটি টাকার অর্থ ঘাটতি বিদ্যমান।

তিনি আরও বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে আগস্ট ২০২৩ থেকে ২১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রায় ৩,১৫০ কোটি টাকার এককালীন বরাদ্দ প্রয়োজন।

সরকার ইতোমধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের আর্থিক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এছাড়া আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়ানোর জন্য সফটওয়্যার পুনরায় চালুকরণ, জনবল বৃদ্ধি, অনলাইন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং iBAS++ এর মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে অবসর সুবিধা বোর্ডের বর্তমান অনিষ্পন্ন আবেদনসমূহ ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীগণ যাতে অবসর গ্রহণের ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যেই তাদের প্রাপ্য অবসর ও কল্যাণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
 

আরও পড়ুন