বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব বেইজিংয়ের
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ ১০:৩২ এএম | আপডেট: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ ১০:৩২ এএম
বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক করিডোর তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এ তথ্য জানান। চীন সফরের শেষ দিন শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মাহদী আমিন বলেন, কানেক্টিভিটি নিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি ইকোনোমিক করিডোর তৈরির প্রস্তাব এসেছে, যার মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপ্তি বাড়ানো, লেনদেন বাড়ানো এবং মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্টেশনকে আরও উন্নত করা।
চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এই বন্দরকে আধুনিকায়ন করে কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, অন্যান্য দেশের জন্যও কাজ করবে এমন একটি আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে তারা কাজ করতে চান। একই সঙ্গে মোংলা বন্দরকে আপগ্রেড ও আরও সেবামুখী করার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সংস্কৃতি, মিডিয়া, প্রযুক্তি, জ্ঞান বিনিময় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে জনসংযোগ জোরদার করতে চান দুই দেশ। শিক্ষা ব্যবস্থায় তৃতীয় ভাষা হিসেবে ম্যান্ডারিন এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, চীনা ভাষা শিক্ষায় শিক্ষক ও অবকাঠামোগত সহায়তা দেবে চীন।
ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে চীন সহায়তা করবে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, রোবোটিক সার্জারি ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাসহ আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। বাংলাদেশ থেকে অনেকে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করে বাংলাদেশিদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করতে ইচ্ছুক চীন।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন পাশে থাকবে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট, এবং এ বিষয়ে সংলাপের প্রয়োজন হলে চীন সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক। তিনি আরও জানান, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে, যার আলোকে আগামী দিনে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ শুরু হবে। এ ছাড়া ব্রিকসে বাংলাদেশের যোগদানের ইচ্ছাকেও স্বাগত জানিয়েছে চীন।
তিনি জানান, বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন
- চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত
- চীনের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে চীনের বিপ্লবী বীরদের শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
- চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শুরু
- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রীর বৈঠক
- চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
- দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন
- ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্ল্যানারি সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী