ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৩৫
শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬ ১১:৩২ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬ ১১:৩২ এএম
ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা টানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২৩৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন চার হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ। ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় দেশটিকে সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে প্রতিবেশী দেশগুলো।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভেনিজুয়েলার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো এই হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলভারাদো জানান, প্রায় ২৩৫ জন রোগী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন অথবা পৌঁছানোর পরপরই প্রাণ হারিয়েছেন। হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সিংহভাগই রেকর্ড করা হয়েছে দেশটির উত্তরের উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরায়, যা ভূকম্পনে সবচেয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলো রোগীতে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, লা গুয়াইরার মূল হাসপাতালটি ভূমিকম্পে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিকিৎসকদের খোলা রাস্তায় বা ফুটপাতে রেখেই আহতদের জরুরি চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে ওই অঞ্চলে বর্তমানে সব ধরনের টেলিফোন ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা বন্ধ রয়েছে।
এই সংকটে আন্তর্জাতিক উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রতিবেশী কলম্বিয়া সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের জাতীয় লজিস্টিক সেন্টার থেকে একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল ভেনিজুয়েলার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৬২ জনেরও বেশি উদ্ধারকর্মী ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকারী কুকুর নিয়ে প্রথম ফ্লাইটটি শুক্রবার ভোরেই রওনা হবে। একই দিন দ্বিতীয় ফ্লাইটে ভারী উদ্ধার সরঞ্জাম ও কারিগরি সামগ্রী পাঠানো হবে, যা ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যে পাঠানো হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর এই সমন্বিত সহায়তা তাৎক্ষণিক জীবন বাঁচানো এবং হাজার হাজার আহতের চিকিৎসা ও মানবিক প্রয়োজন মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘ দেড় দশক ধরে অর্থনৈতিক মন্দা ও সামাজিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করা ভেনিজুয়েলায় এমন এক সময় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে, যখন দেশজুড়ে আগে থেকেই তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছিল। গত ১৫ বছরের অর্থনৈতিক পতনের প্রভাবে পানি, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসহ অধিকাংশ জনসেবা খাত কার্যত ভেঙে পড়েছে। ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে অনেক হাসপাতাল আগে থেকেই স্বাভাবিক সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম পরিসরে সেবা দিয়ে আসছিল।
দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের কারণে গত দেড় দশকে অন্তত ৮০ লাখ মানুষ উন্নত জীবনের সন্ধানে ভেনিজুয়েলা ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। দেশত্যাগকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রকৌশলী ও চিকিৎসকসহ বিভিন্ন খাতের দক্ষ পেশাজীবী থাকায় ভূমিকম্প-পরবর্তী জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে জনবল সংকটে পড়েছে দেশটি।
আরও পড়ুন
- কঙ্গোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৯, বেশিরভাগই শিক্ষার্থী
- হরমুজে মার্কিন জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের হামলা
- মৃত ভেবে শোক, ১০ দিন পর নেপালের ধ্বংসস্তূপে জীবিত মিলল বৃদ্ধা
- হরমুজে জলযান প্রবেশে ইরানের নিষেধাজ্ঞা, দ্বিগুণ হচ্ছে পেট্রোলের দাম
- কেপ ভার্দে পাহাড়ি সড়ক থেকে বাস খাদে পড়ে নিহত ২৫
- মিয়ামি বিমানবন্দরে বিমান দুর্ঘটনা, নিহত ৫
- ‘আমি কাতারে বোমা মেরেছি’ : নেতানিয়াহু
- হোটেল বন্ধ, কলকাতায় ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছেন চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিরা