বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ১১:২৮ এএম | আপডেট: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ১১:২৮ এএম
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।
ইরান তাদের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর থেকে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করার পর বৈশ্বিক বাজারে তেলের বড় ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিনের যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে।
বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১ দশমিক ৫৩ ডলার বা ১ দশমিক ৯০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৯ দশমিক ০৪ ডলারে। অথচ দিনের শুরুতে লেনদেনের প্রথম ভাগে এই দাম সর্বোচ্চ ৮২ দশমিক ৩০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।
বাজারে এই অস্থিরতার পেছনে মূলত কাজ করেছিল আলোচনার শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় যুদ্ধ শুরুর হুমকি এবং তেহরানের পক্ষ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়ার আকস্মিক ঘোষণা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড তেলের দাম চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে প্রতি ব্যারেলে মাত্র ৭ সেন্ট কমে দাঁড়ায় ৭৬ দশমিক ৫৩ ডলারে। তবে বাজারে অপেক্ষাকৃত বেশি সচল আগামী আগস্ট মাসের পরবর্তী চুক্তির তেলের দাম ৫৫ সেন্ট কমে প্রতি ব্যারেলে নেমে আসে ৭৫ দশমিক ৩০ ডলারে। একটি সরকারি ছুটির কারণে গত শুক্রবার মার্কিন জ্বালানি বাজারে তেলের দামের কোনো আনুষ্ঠানিক সেটেলমেন্ট হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আজ সোমবার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে তাঁদের প্রথম দফার গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সম্পন্ন করেছেন। গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী গত রোববার থেকে এই সংলাপ শুরু হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য, গত এপ্রিল থেকে চলে আসা সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী অন্তত ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো।
সূত্র: রয়টার্স