ডেভিডের হ্যাটট্রিক, কাতারের জোড়া লাল কার্ড, বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম জয়
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬ ১১:৪৪ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬ ১১:৪৪ এএম
ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে কাতারকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক কানাডা। জোনাথন ডেভিডের রেকর্ড গড়া হ্যাটট্রিকের এই ম্যাচে জোড়া লাল কার্ড দেখেছে কাতার। তবে একচেটিয়া আধিপত্য ও বড় জয়ের দিনটিতেও স্বাগতিক শিবিরে বিষাদ নামিয়ে এনেছে মারাত্মক ফাউলের শিকার হয়ে কানাডিয়ান মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের পা ভাঙার মর্মান্তিক ঘটনা।
র্যাঙ্কিংয়ে ২৮তম স্থানে থাকা কানাডার বিপক্ষে ৫৮তম স্থানে থাকা কাতারের লড়াইয়ে শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট ছিল শুরু থেকেই। ম্যাচের ১৬ মিনিটেই কাইল লারিনের গোলে লিড নেয় কানাডা। এরপর ৩৩ মিনিটে কানাডার ফরোয়ার্ড তেজন বুকাননকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম আহমেদ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া কাতারের বিপক্ষে ৩৯ মিনিট ও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও দুটি গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন জোনাথন ডেভিড।
ম্যাচের ৫২ মিনিটে ঘটে সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি। বল দখলের লড়াইয়ে পেছন থেকে কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনেকে মারাত্মক ট্যাকল করেন কাতারের আসিম মাদিবো, যাতে ভেঙে যায় কোনের বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়, আর সেই সময় কানাডার কোচ জেসে মার্চকে কাঁদতে দেখা যায়। প্রথমে হলুদ কার্ড পেলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর লাল কার্ড দেখেন মাদিবো, ফলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় কাতার। অনুতপ্ত মাদিবোকে তখন সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় সতীর্থদের। চোটের কারণে প্রায় সাড়ে ছয় মিনিট বন্ধ ছিল খেলা।
কোনের বদলি হিসেবে নেমে ৬৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন নাথান সালিবা। গোল উদযাপনের সময় আহত সতীর্থ কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরে এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেন তিনি। এরপর ৭৫ মিনিটে কাতারের মোহাম্মদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। সবশেষে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে নিজের তৃতীয় গোলটি করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন জোনাথন ডেভিড, নিশ্চিত করেন দলের ৬-০ ব্যবধানের বিশাল জয়।
এই জয়ে বিশ্বকাপে একাধিক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে কানাডা। ১৯৬৬ সালের ফাইনালে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের পর দীর্ঘ ৬০ বছর পর স্বাগতিক দেশের কোনো খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়লেন জোনাথন ডেভিড—সব মিলিয়ে এই তালিকার ষষ্ঠ খেলোয়াড় তিনি।
পাশাপাশি ১৯৩৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ইতালির ৭-১, ১৯৫০ সালে সুইডেনের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৭-১ এবং ১৯৭৮ সালে পেরুর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৬-০ গোলের জয়ের পর, স্বাগতিক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছে কানাডা।
অন্যদিকে লজ্জার রেকর্ডও গড়েছে কাতার—বিশ্বকাপের ইতিহাসে তারাই প্রথম দল, যারা একই ম্যাচে দুটি লাল কার্ড দেখার পাশাপাশি আত্মঘাতী গোল হজম করেছে।
এই জয়ের ফলে ‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে কানাডা। দুই ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। আগের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারানো সুইজারল্যান্ডের পয়েন্টও সমান ৪ হলেও, গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় তারা নেমে গেছে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে।
আরও পড়ুন
- বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট পেল মেক্সিকো
- বাংলাদেশের সামনে আজ বাঁচা-মরার লড়াই
- স্টেডিয়ামে বসে ছেলের বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখবেন ভোজিনহার মা
- হ্যাটট্রিকের রাতে বাবার অসুস্থতায় কেঁদেছিলেন মেসি
- কেইনের জোড়া গোলে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দিল ইংল্যান্ডের
- ড্র-র গ্লানি নিয়ে মাঠ ছাড়ল পর্তুগাল
- প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারল বাংলাদেশ
- রাতে কঙ্গোর বিপক্ষে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করছে পর্তুগাল