1. »
  2. আন্তর্জাতিক

জি৭ সম্মেলনে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতাকে স্বাগত

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬ ১১:১৩ এএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬ ১১:১৩ এএম

জি৭ সম্মেলনে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতাকে স্বাগত

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁস শহরে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে লেবাননে অবিলম্বে ও শক্তিশালী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা চুক্তিকে তারা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানান।

বিশ্বনেতারা মনে করছেন, ইরান ও লেবাননে সাম্প্রতিক সংঘাতে সাত হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির পর এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চুক্তির অন্যতম শর্ত অনুযায়ী ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে। তবে জি৭ নেতারা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি কমাতে বিকল্প সরবরাহ পথ গড়ে তোলার ওপরও জোর দিয়েছেন।

চুক্তির বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে লেবানন ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত। গত মার্চে ইসরায়েলের দক্ষিণ লেবাননে হামলার পর অঞ্চলটির একটি বড় অংশ এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, স্থায়ী শান্তির জন্য লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য। তবে ইসরায়েল এ বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে।

এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে দৃশ্যমান মতপার্থক্য তৈরি করেছে। সম্মেলনে ট্রাম্প ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

জি৭ সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। বিশ্বনেতারা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে বলেও মত দেন তারা।

রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা নিয়েছে জি৭ দেশগুলো। পাশাপাশি ইউক্রেনকে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র এবং দূরপাল্লার সামরিক সহায়তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনীতির ভারসাম্য এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে বিরল খনিজে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে জি৭ দেশগুলো যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়।

গত বছর চীনের রপ্তানি বিধিনিষেধের কারণে জ্বালানি, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে পশ্চিমা বিশ্বে। এই প্রেক্ষাপটে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সম্মেলনের ফাঁকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইউরোপের নিরাপত্তার দায়িত্ব ইউরোপকেই আরও বেশি নিতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত প্রতিশ্রুতি বজায় রাখলেও ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি করা জরুরি।

জি৭-এর সদস্য দেশগুলো হলো—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও জাপান।