দেশের অর্জিত গৌরব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬ ১২:৪৯ পিএম | আপডেট: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬ ১২:৪৯ পিএম
বিশ্বমঞ্চে আমাদের শান্তিরক্ষীরা যে কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই সম্ভব হয়েছে। দেশের এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয়, সেটি রক্ষা করা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কর্তব্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে শাহাদাতবরণকারী ছয় সেনাসদস্যের স্ত্রীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি চলমান বিভিন্ন মিশনে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়। বিভিন্ন দেশে কর্মরত শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কুশল বিনিময় করেন তিনি।
বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অবদানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত দেশের সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশে প্রায় ৬৩টি মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানেও ৪ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৯টি মিশনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন এবং হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্যের সাহসী অংশগ্রহণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, নারী সদস্যদের এই সক্রিয়তা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনী যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, তেমনি ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির আঘাতসহ সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হবে। পেশাদারিত্ব, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য অপরিহার্য বলেও সতর্ক করেন তিনি।
পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায় হয়ে উঠছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও সাংবিধানিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সবসময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাস করে। সংবিধানে ব্যক্ত হওয়া বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক সহ-অবস্থানের প্রতি দেশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ যেকোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং জাতিসংঘের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।
আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২৬ উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের শীর্ষনেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীসহ বিভিন্ন দেশের বিদেশি কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে শহীদ পরিবারকে সম্মাননা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বাতিলের খবর ভিত্তিহীন: শিক্ষামন্ত্রী
- প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংসদের বাজেট অধিবেশনের তৃতীয় বৈঠক শুরু
- বিশ্বের ১৪০ দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- প্রটোকল ছাড়াই আকস্মিক পরিদর্শনে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
- স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সংসদের বাজেট অধিবেশনের সভা চলছে
- জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী
- শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী