গাজার ধ্বংসস্তূপে এখনও চাপা আট হাজার মরদেহ
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬ ১১:৩৬ এএম | আপডেট: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬ ১১:৩৬ এএম
ইসরায়েলের দুই বছরের সামরিক অভিযানে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় এখনও অন্তত আট হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক কর্মকর্তার বরাতে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত মোট ধ্বংসাবশেষের এক শতাংশেরও কম সরানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমান গতিতে কাজ চললে পুরো গাজা পরিষ্কার করতে সাত বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারী যন্ত্রপাতি ও জনবলের তীব্র সংকটে উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। ফলে বিধ্বস্ত ভবনের নিচে চাপা পড়া প্রিয়জনদের এখনও দাফন করতে পারেননি অনেক পরিবার।
গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও গাজায় ইসরায়েলের হামলা পুরোপুরি থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে নতুন করে অন্তত ৮২৮ ফিলিস্তিনি নিহত ও দুই হাজার ৩৪২ জন আহত হয়েছেন। দুই বছরের যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার মানুষ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় গাজার ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং উপত্যকাটি পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।
এদিকে গাজা অভিমুখী মানবিক ত্রাণবহর সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে আটক দুই বিদেশি অ্যাক্টিভিস্ট — স্পেনের সাইফ আবু কেশেক ও ব্রাজিলের থিয়াগো আভিলাকে — রোববার ইসরায়েলের আশকেলন আদালতে হাজির করা হয়। তাদের পক্ষে আইনি সহায়তা দেওয়া সংগঠন আদালাহ জানিয়েছে, ইসরায়েল চার দিনের জন্য আটকাদেশ বাড়ানোর আবেদন করেছে। আটক দুজন অভিযোগ করেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের আগে তাদের মারধর, চোখ বেঁধে রাখা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা হামাস-সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি থেকে যাত্রা করা ৫০টির বেশি নৌযানের এই বহরটি বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় গ্রিস উপকূলের কাছে ইসরায়েলি বাহিনী আটকে দেয়।
পশ্চিম তীরেও সহিংসতা ক্রমশ বাড়ছে। গত ২১ এপ্রিল রামাল্লাহর কাছে মুগাইয়ির গ্রামে সশস্ত্র ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনারা স্কুল লক্ষ্য করে গুলি চালালে ১৪ বছর বয়সী ছাত্র আওস আল-নাসানসহ দুজন ফিলিস্তিনি নিহত হন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এ পর্যন্ত অন্তত ১৮ হাজার ৬৩৯ জন শিক্ষার্থী ও ৭৯২ জন শিক্ষক নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৯০ শতাংশ স্কুল ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনিসেফ সতর্ক করে বলেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ধারাবাহিক এই হামলা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনকে গভীর সংকটে ফেলছে।
আরও পড়ুন
- পদত্যাগ না করার ঘোষণা মমতার, ভরাডুবির জন্য দুষলেন নির্বাচন কমিশনকে
- ভোট গণনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিজেপি
- আবারও ইরানে হামলার হুমকি দিলেন ট্রাম্প
- যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড উচ্চতায় পেট্রোলের দাম, যুদ্ধ শেষে কমবে বলছেন ট্রাম্প
- ইরানের সঙ্গে আবারও যুদ্ধের সম্ভাবনার কথা জানালেন ট্রাম্প
- মার্কিন হেফাজত থেকে মুক্ত ৬ ইরানি নাবিক, এখনও আটক ২২
- যুক্তরাষ্ট্রে হত্যার শিকার পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমনের জানাজা আজ
- ইরানকে সহায়তা: ৩৫ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা