1. »
  2. জাতীয়

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:৫৮ পিএম | আপডেট: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:৫৮ পিএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু

পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। 

মঙ্গলবার দুপুরে পদ্মার তীরে গড়ে ওঠা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

এই মাইলফলকের মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর আন্তর্জাতিক তালিকায় ৩৩তম সদস্য হিসেবে যোগ দিল বাংলাদেশ। একাধিক ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই কেন্দ্র ঢাকা ও মস্কোর মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, এই দিনটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ — প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে দেশ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এগিয়ে গেল।

রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ জানান, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পাশে থাকবে রোসাটম। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তামান নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে এবং ব্যবহৃত জ্বালানি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ভবিষ্যতের যেকোনো প্রয়োজনে সহায়তা অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে বিমানযোগে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান ঢাকায় পৌঁছায়। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি চালান আসে এবং বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সড়কপথে তা রূপপুরে স্থানান্তর করা হয়। অতিরিক্ত একটিসহ মোট ১৬৪টি জ্বালানি বান্ডিল দেশে আনা হয়েছে, প্রতিটি বান্ডিলে রয়েছে ৩১২টি জ্বালানি রড।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি মূলত ইউরেনিয়াম অক্সাইড থেকে তৈরি। ক্ষুদ্র ট্যাবলেট আকৃতির জ্বালানি দানা (পেলেট) তৈরি করে চার মিটার দীর্ঘ ধাতব নলে সাজিয়ে তৈরি হয় একটি জ্বালানি রড। এরপর নির্দিষ্ট কাঠামোতে একাধিক রড একত্রিত করে গঠিত হয় জ্বালানি বান্ডিল বা ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। রূপপুরের প্রথম ইউনিটে একসঙ্গে ১৬৩টি বান্ডিল ব্যবহার করা হবে এবং একবার লোড করা জ্বালানিতে প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ব্যবহারের পর তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বিশেষ ব্যবস্থায় রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে এবং আইএইএর নজরদারিতে প্রতিটি বান্ডিলের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করা হবে।