1. »
  2. আন্তর্জাতিক

তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি, ওয়াশিংটনে বসছে ইসরায়েল-লেবাননের ঐতিহাসিক বৈঠক

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৫৬ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৫৬ এএম

তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি, ওয়াশিংটনে বসছে ইসরায়েল-লেবাননের ঐতিহাসিক বৈঠক

ইসরায়েল-লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি তিন সপ্তাহ বাড়ল, ওয়াশিংটনে বসবে ঐতিহাসিক বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেও শান্তির আলো দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েল ও লেবানন চলমান যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাম্প জানান, আলোচনা ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে সরাসরি ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমবারের মতো দুই প্রতিবেশী দেশ সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি হলো। বিশ্লেষকরা এই অগ্রগতিকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।

হিজবুল্লাহর উপস্থিতিকে পরিস্থিতির জটিলতার কারণ উল্লেখ করে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, আক্রমণের মুখে পড়লে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার সম্পূর্ণ বৈধ। লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদে মোয়াদ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমেরিকার সহযোগিতায় লেবানন আবারও মাথা তুলে দাঁড়াবে।

প্রেসিডেন্ট আউন জানিয়েছেন, এই বর্ধিত যুদ্ধবিরতির মূল লক্ষ্য দুটি — ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ করা এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা। একই সঙ্গে ইসরায়েলে আটক লেবাননি বন্দিদের মুক্তি, সীমান্তে লেবাননি সেনা মোতায়েন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্গঠনের বিষয়েও তিনি জোর দিয়েছেন।

তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক পরিষদের জ্যেষ্ঠ সদস্য ওয়াফিক সাফা সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, এই সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে হওয়া কোনো চুক্তি তারা মানবে না। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সারও বলেছেন, হিজবুল্লাহই দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্বাভাবিক সম্পর্কের পথে একমাত্র প্রধান অন্তরায়।

গত ২ মার্চ সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত লেবাননে অন্তত ২ হাজার ৩০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। সংঘাতের শুরু হয়েছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর দুদিন পর, যখন হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও স্থল অভিযান চালায় এবং বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতরে বাফার জোন তৈরি করে অবস্থান করছে।

এর মধ্যে বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় প্রখ্যাত সাংবাদিক আমাল খলিল নিহত হওয়ার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। তবে এই উত্তপ্ত পরিবেশের মধ্যেও আগামী তিন সপ্তাহের বাড়তি সময়কে বিশেষজ্ঞরা স্থায়ী শান্তি চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন।