1. »
  2. আন্তর্জাতিক

কোনো হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান : পার্লামেন্ট স্পিকার

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:১৬ এএম | আপডেট: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:১৬ এএম

কোনো হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান : পার্লামেন্ট স্পিকার

পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় বিমান হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালl।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নৌ-অবরোধের ঘোষণার পাশাপাশি সামরিক হামলার পরিকল্পনাও ট্রাম্পের বিবেচনায় রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর হতে পারে।

এদিকে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কোনো হুমকির কাছে মাথানত করবে না। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে তেহরান কখনোই নতি স্বীকার করবে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় উভয় পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ চাপ’, বারবার অবস্থান পরিবর্তন এবং অবরোধের কারণে তা ব্যর্থ হয়েছে।

গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে বলেন, এই তথাকথিত অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়বে এবং ভবিষ্যতে কম দামের জ্বালানির দিনগুলো মানুষ স্মরণ করবে।

ইরানের নৌবাহিনীও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, দেশটির জলসীমার দিকে অগ্রসর হওয়া যে কোনো শত্রু জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের ভেতরেও। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে। সরকার সাইবার নিরাপত্তার অজুহাতে এই পদক্ষেপ নিলেও এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।

বর্তমানে ইরানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা মূলত দুই ভাগে বিভক্ত—একদল সরকার অনুমোদিত সংযোগ ব্যবহার করছে, অন্যরা উচ্চমূল্যে বিকল্প উপায়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। BBC-এর তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ব্যবহারকারীদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা, সরকার-সমর্থক ব্যক্তি, সাংবাদিক এবং কিছু শিক্ষক-শিক্ষার্থী রয়েছেন।

অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকদের অনেকেই উচ্চমূল্যে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে Starlink-এর মাধ্যমে সংযোগ নিতে প্রতি গিগাবাইটে প্রায় ৬ ডলার ব্যয় হচ্ছে, যা দেশটির গড় আয়ের তুলনায় অত্যন্ত বেশি।

উল্লেখ্য, ইরানে স্টারলিংক ব্যবহারের জন্য শাস্তির বিধানও রয়েছে—দোষী প্রমাণিত হলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ইতোমধ্যে শত শত স্টারলিংক ডিভাইস জব্দ করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

সার্বিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।