1. »
  2. আন্তর্জাতিক

কাতারের এলএনজি স্থাপনা ঠিক করতে লাগব ৫ বছর, ভুগবে বাংলাদেশ

শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬ ১১:৩৪ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬ ১১:৩৪ এএম

কাতারের এলএনজি স্থাপনা ঠিক করতে লাগব ৫ বছর, ভুগবে বাংলাদেশ

ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা আঘাতে কাতার-এর এলএনজি অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। দেশটির কাতারএনার্জি জানিয়েছে, এই হামলায় রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পুরোপুরি পুনরুদ্ধারে সময় লাগতে পারে ৩ থেকে ৫ বছর।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাতারএনার্জির সিইও সাদ আল-কাবি বলেন, এই হামলা ছিল অপ্রত্যাশিত, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে এমন ঘটনা ঘটবে তা তিনি কল্পনাও করেননি।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্স-এর কিছু অংশে আগুন ধরে যায়। এটি বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

এর আগে ইসরায়েল সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র-এ বিমান হামলা চালায়, যা বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র এবং যার একটি অংশ কাতারের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবহৃত হয়। এর জবাবে ইরান সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, এই হামলার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো—বিশেষ করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত—বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতে বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানায়, পাকিস্তান তাদের এলএনজির প্রায় ৯৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানি করে কাতার থেকে। অন্যদিকে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতও তাদের চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি এলএনজি কাতার থেকে সংগ্রহ করে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এলএনজি মজুত সীমিত—যা দিয়ে সর্বোচ্চ এক থেকে দুই সপ্তাহ চলতে পারে। ফলে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে এই দেশগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে পূর্ব এশিয়ার তাইওয়ান-ও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দেশটি তাদের এলএনজির এক-তৃতীয়াংশ কাতার থেকে আমদানি করে এবং বর্তমানে তাদের হাতে মাত্র ১১ দিনের মজুত রয়েছে, যদিও স্বল্পমেয়াদি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।