1. »
  2. আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে চীনের সহায়তা চাইলেন ট্রাম্প

সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬ ১০:৫৮ এএম | আপডেট: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬ ১০:৫৮ এএম

হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে চীনের সহায়তা চাইলেন ট্রাম্প

পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি নিরাপদে সচল রাখতে চীনের সহায়তা চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সঙ্গে তার আসন্ন বৈঠকের আগে চীন হরমুজ প্রণালি আবার চালু করতে সহায়তা করবে বলে তিনি আশা করছেন।

এমন সময় যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছে এই আহ্বান জানাল, যখন বেইজিং তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে নিজেদের তেলবাহী জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো জোটের প্রয়োজন অনুভব নাও করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে ভারত জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে তাদের দুটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার অনুমতি পেয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, চীন তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল আমদানির ক্ষেত্রে এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। চলতি মাসের শেষ দিকে বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তিনি বৈঠকের আগেই এ বিষয়ে চীনের পদক্ষেপ দেখতে চান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যে দেশগুলো হরমুজ প্রণালি থেকে সুবিধা পায়, তাদের স্বাভাবিকভাবেই এই প্রণালি সচল রাখতে উদ্যোগী হওয়া উচিত। তার মতে, ইউরোপ ও চীন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি অন্য দেশগুলো এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ন্যাটো–এর ভবিষ্যতের জন্য তা ভালো হবে না। যুক্তরাষ্ট্র তার ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনকে সহায়তা করা যুক্তরাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক ছিল না, তবুও তারা সহায়তা করেছে। এখন অন্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায় কি না সেটাই দেখার বিষয়।

এর একদিন আগে ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যৌথ উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত তেল পরিবহন পথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। বিশ্বে মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর সঙ্গে ইরান–এর উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বারবার হুমকি দিয়েছে যে তারা কোনো তেলবাহী জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে যেতে দেবে না। ইতোমধ্যে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, নয়াদিল্লি ও তেহরানের সরাসরি আলোচনার ফলে দুটি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হতে পেরেছে। শনিবার ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার নিরাপদে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।

তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে ভারতের কোনো স্থায়ী চুক্তি হয়নি এবং এর বিনিময়ে ইরান কিছুই পায়নি। তবে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলছে।

ভারত তাদের শহরাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে প্রায় ৬০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে থাকে। আর তাদের আমদানি করা মোট গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত–সহ উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। এই জ্বালানির বড় অংশই পরিবহন করা হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে।

সূত্র: বিবিসি।