1. »
  2. জাতীয়

পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনায় দেশে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী

শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬ ০৯:১৩ পিএম | আপডেট: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬ ০৯:১৩ পিএম

পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনায় দেশে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী

পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিকভাবে যাকাত বণ্টন করা গেলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা-তে এতিম শিশু ও আলেম-ওলামাদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে যদি প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া যায়, তাহলে অনেক পরিবার পরের বছর আর যাকাত গ্রহণের প্রয়োজন নাও হতে পারে। এভাবে সুপরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

তিনি বলেন, ইসলামের বিধান অনুযায়ী সমাজের বিত্তবানরা নিজ উদ্যোগে যাকাত প্রদান করে থাকেন। আবার কেউ কেউ সরকারি যাকাত বোর্ডের মাধ্যমেও যাকাত পরিশোধ করেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর যাকাতের পরিমাণ প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার অভাবে এই অর্থ দারিদ্র্য বিমোচনে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারছে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ইসলামী বিধান অনুযায়ী যাকাত এমনভাবে বণ্টনের কথা বলা হয়েছে, যাতে একজন যাকাতগ্রহীতা প্রথমবার সহায়তা পাওয়ার পর পরের বছর আর যাকাতের ওপর নির্ভরশীল না থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুসংগঠিতভাবে যাকাত বণ্টন করা গেলে এটি দারিদ্র্য দূরীকরণে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি জানান, সরকার যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এ সময় আলেম-ওলামা ও এতিমদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে সীমিত পরিসরে ইফতার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল ও আজ—মোট দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আজকের এই ইফতার মাহফিলে উপস্থিত এতিম শিশুরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অতিথি। কোরআন ও হাদিসে এতিমদের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে মুসলমানদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

এতিমদের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিত্তবানরা যদি কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী এতিমদের প্রতি দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে পিতৃহারা শিশুরা সমাজে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পাবে।

রমজানকে ত্যাগ ও সংযমের মাস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুঃখজনক হলেও দেখা যায়, রমজান এলেই কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। তিনি অসাধু ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, পবিত্র এই মাসে মানুষের কষ্টের কারণ না হতে।

ইফতার মাহফিলে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেকসহ বিভিন্ন আলেম-ওলামা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।