1. »
  2. আন্তর্জাতিক

আইআরজিসির নতুন প্রধান আহমদ বাহিদি, যুদ্ধের মধ্যেই বড় দায়িত্ব

শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬ ১০:৩৪ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬ ১০:৩৪ এএম

আইআরজিসির নতুন প্রধান আহমদ বাহিদি, যুদ্ধের মধ্যেই বড় দায়িত্ব

ইরানের সামরিক কাঠামোর অন্যতম প্রভাবশালী পদ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ বাহিদি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্যেই তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের শুরুতে হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। তাদের মধ্যে আইআরজিসির সাবেক প্রধান মোহাম্মদ পাকপুরও রয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি নিহত হন। তার আগে আইআরজিসির প্রধান ছিলেন হুসাইন সালামী, যিনি ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে হামলায় নিহত হন।

এর আগেও আইআরজিসির শীর্ষ নেতৃত্ব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সংস্থাটির কুদস ফোর্সের দীর্ঘদিনের কমান্ডার কাশেম সুলেমানী ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন। ওই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বাহিদি কে
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর গঠিত আইআরজিসির শুরু থেকেই এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আহমদ বাহিদি। ১৯৮০–এর দশকে তিনি গোয়েন্দা ও সামরিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি আইআরজিসির কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব দেন। পরে ওই দায়িত্ব পান কাশেম সোলাইমানি।

যুদ্ধ শুরুর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি তাকে আইআরজিসির উপপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। যুদ্ধের প্রথম দিন হামলায় খামেনি নিহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাহিদি প্রকাশ্যে ইসলামী বিপ্লবের আদর্শ রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন। এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “ইসলামী বিপ্লবকে রক্ষা করা বিশ্বের অন্যতম বড় দায়িত্ব।”

রাজনৈতিক ভূমিকা
সামরিক জীবনের পাশাপাশি রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন আহমদ বাহিদি। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের সরকারের সময় তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। পরে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ও প্রশাসনিক—উভয় ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতা থাকায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে আইআরজিসির নেতৃত্ব দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

বিতর্ক ও নিষেধাজ্ঞা
তবে বাহিদিকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ইন্টারপোল ‘রেড নোটিশ’ জারি করে। ওই হামলায় ৮৫ জন নিহত হন। তবে ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এগুলো ভিত্তিহীন।

এ ছাড়া ২০২২ সালে মাশা আমিনীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধে ইরানের অনেক শীর্ষ নেতা ও অভিজ্ঞ কমান্ডার নিহত হওয়ায় আইআরজিসিকে নতুন করে সংগঠিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কিছু সামরিক ইউনিট বর্তমানে অনেকটাই স্বতন্ত্রভাবে কাজ করছে, ফলে সমন্বয় বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাদের মতে, আইআরজিসির বিকেন্দ্রীভূত কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে যুদ্ধ পরিচালনা করাই হবে আহমদ বাহিদির প্রধান দায়িত্ব। কারণ ইসলামী প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকা অনেকটাই নির্ভর করছে এই বাহিনীর সক্ষমতার ওপর।