1. »
  2. জাতীয়

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন দেশি-বিদেশি ১২০০ অতিথি

সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১০:৩৭ এএম | আপডেট: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১০:৩৭ এএম

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন দেশি-বিদেশি ১২০০ অতিথি

দীর্ঘ দুই যুগ পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।

আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাতে পারেন।

রাজকীয় আয়োজনে ভারত, পাকিস্তান ও ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১,২০০ আমন্ত্রিত অতিথি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি এবং জোটগতভাবে মোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতাও তুঙ্গে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন।

এছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিল এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসাও অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। শেষ মুহূর্তে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু ঢাকায় আসতে পারেন বলেও কূটনৈতিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা অনুষ্ঠানে যোগ দিলে এর আন্তর্জাতিক গুরুত্ব আরও বাড়বে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, এরপর সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বিএনপি সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে, যিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

এর আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কর্মকালীন অভিজ্ঞতা ও নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানের স্থানটি বিএনপির পক্ষ থেকেই নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, তিন বাহিনীর প্রধান, বিশিষ্ট আইনজীবী, সাংবাদিক ও কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কেও আমন্ত্রণ জানানো হলেও পূর্বনির্ধারিত ‘ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ অংশগ্রহণের কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তার পরিবর্তে ওম বিড়লা ও ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি দেশটির প্রতিনিধিত্ব করবেন।

এই শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।