বিএনপি একমাত্র দল যার আছে পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও অভিজ্ঞতা : তারেক রহমান
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০১:৫৪ পিএম | আপডেট: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০১:৫৪ পিএম
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে, কর্মসংস্থান পাবে এবং নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবে। দেশ পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপিরই আছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশ পুনর্গঠন করা হবে।
আজ সোমবার রাজধানীর বনানীতে নির্বাচনী জনসভায় দেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনে মানুষের অনেক প্রত্যাশা থাকে। বিএনপির কাছে সেই প্রত্যাশা আরও বেশি। তাই আমরা সব বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
তিনি জানান, তিনি ঢাকা-১৭ আসনেই জন্মেছেন এবং পুরো পরিবার এই এলাকায় জীবন কাটিয়েছে। এজন্য এলাকার মানুষের সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই এলাকায় জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণসহ নানা সমস্যা রয়েছে, যা আমরা সবাই মিলে সমাধান করব।
দেশের অর্ধেক জনশক্তি নারী। তাদের সম্পৃক্ত করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে নিশ্চিত করেছিলেন। এর ফলে আজ অনেক নারী শিক্ষায় এগিয়ে গেছেন। এখন তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছি।
কৃষি বাংলাদেশের প্রাণ। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। দেশের শিক্ষিত বেকারদের জন্য প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। বিদেশে যেতে আগ্রহীদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা থাকবে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এর ফলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে চিকিৎসাসেবা দেবেন, যাতে হাসপাতালে যাওয়ার আগেই মানুষ সুস্থ থাকতে পারে।
ইমাম, মোয়াজ্জিন, খতিবসহ সকল ধর্মীয় নেতাদের জন্য সরকারি সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচনের জন্য অনেক মানুষ জীবন দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছেন। স্বৈরাচারী শাসনামলে বহু নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এমন ত্যাগের কারণেই আজ আমরা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে পারছি।
আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ধর্ম বা বর্ণ নয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচার হবে। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিশ্বে বহু দেশ একসময় সমস্যায় ভুগেছিল, কিন্তু ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারা দেশ পরিবর্তন করেছে। তারা পারলে আমরাও পারব। কারণ আমরা প্রমাণ করেছি—১৯৭১ সালে এবং ২০২৪ সালে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছিল। ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের পরে তার দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে গিয়েছিল। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার দেশকে ধ্বংস করেছিল, কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে আবার দেশকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেছে।
আমরা স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। এখন আমাদের প্রধান কাজ রাষ্ট্র পুনর্গঠন। ২০ কোটি মানুষের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। দেশজুড়ে রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালের বেহাল অবস্থা সংস্কার করতে হবে।
বিএনপি বিশ্বাস করে, জনগণই একমাত্র ক্ষমতার উৎস। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জনগণের সমর্থন রয়েছে। আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ। বিএনপি একমাত্র দল, যার দেশ গড়ার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বৈরাচার বেগম খালেদা জিয়াকে দেশ ছাড়তে বলেছিল। কিন্তু তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, “এই বাংলাদেশই আমার প্রথম ও শেষ ঠিকানা। এ দেশের মানুষই আমার পরিবার।” জীবন বিপন্ন জেনেও তিনি দেশ ছাড়েননি। শেষ দিন পর্যন্ত দেশের মানুষের সঙ্গে ছিলেন।
জনগণ যতবার বিএনপিকে সুযোগ দিয়েছে, বিএনপি ততবার দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলেছে। তাই দেশ গড়তে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। বিএনপি একমাত্র দল যার আছে পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও অভিজ্ঞতা। বিএনপির মূল লক্ষ্য রাষ্ট্র পুনর্গঠন। স্বৈরাচার যে দেশ ভেঙে দিয়েছে, আমরা সবাই মিলে আবার তা গড়ে তুলব—ইনশাআল্লাহ।
আরও পড়ুন
- দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত অবধারিত : জামায়াত প্রার্থী
- বনানীসহ আট স্থানে তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় আজ
- ঢাকার ছয়টি স্থানে আজ তারেক রহমানের জনসভা আজ
- ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর, ক্যাডেট কলেজ ও আইটি পার্ক চালু করা হবে : তারেক রহমান
- ঢাকা থেকে সৈয়দপুরের পথে তারেক রহমান
- বিএনপির নয়াপল্টনের সমাবেশ স্থগিত
- আজ বিএনপির নির্বাচনি ইসতেহার ঘোষণা
- গুপ্তরা এখন জালেম রূপে ফ্যাসিস্টদের রীতিনীতি প্রয়োগ করছে: তারেক রহমান