প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান : দ্য ইকোনমিস্ট
মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৯:৪২ পিএম | আপডেট: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৯:৪২ পিএম
যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাপ্তাহিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শীর্ষ দাবিদার হিসেবে উল্লেখ করেছে।
২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে সাময়িকীটি লিখেছে, ‘খ্যাতনামা এক রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী।’
বিশ্লেষণে বলা হয়, ১৮ মাস আগে সংঘটিত এক গণঅভ্যুত্থানের পর এটি বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যেখানে ‘জেনারেশন জেড’-এর আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনের অবসান ঘটে। সাময়িকীটি মনে করে, এই নির্বাচন গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন ঘটাবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ খুলবে।
তারেক রহমানের সম্ভাবনা নিয়ে দ্য ইকোনমিস্ট-এর এই পূর্বাভাস এসেছে টাইম ম্যাগাজিন ও ব্লুমবার্গসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুরূপ বিশ্লেষণের পর।
সাময়িকীটি ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘটনাও তুলে ধরে জানায়, বুলেটপ্রুফ বাসে করে ফেরার সময় উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের ভিড়ে তার যাত্রাপথ কয়েক মাইলজুড়ে ধীরগতিতে এগোয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো ‘যথাযথ’ নির্বাচন হয়নি এবং দেশের প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের প্রায় ৪০ শতাংশ কখনো প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। নিরাপত্তা বিশ্লেষক শাফকাত মুনিরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের ভোটের কোনো মূল্য ছিল না, তবে বর্তমানে রাজধানীজুড়ে নির্বাচনী ব্যানার চোখে পড়ছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়, নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এই নির্বাচনই শেষ বড় দায়িত্ব। সাময়িকীটির মতে, এই সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সক্ষম হয়েছে এবং নতুন করে স্বৈরতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন করেছে—যেমন উচ্চকক্ষ গঠন ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করা।
জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, দলটি সংযত শাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের অগ্রগতি শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। দলটি এবার কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি এবং সংসদীয় অভিজ্ঞতার ঘাটতিও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে দ্য ইকোনমিস্ট মনে করে, পরিস্থিতি তারেক রহমানের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে, কারণ জনমত জরিপে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে।
সাময়িকীটি স্মরণ করিয়ে দেয়, বিএনপি দীর্ঘদিন পরিচালিত হয়েছে তার প্রয়াত মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং তার আগে দলটির নেতৃত্বে ছিলেন তার বাবা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি তিনবার ক্ষমতায় আসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমান নির্বাচিত হলে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের প্রশিক্ষণ, পানি সংকট মোকাবিলায় খাল খনন ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং ২০২৪ সালের সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও করেছেন।
দ্য ইকোনমিস্ট মন্তব্য করেছে, পর্যবেক্ষকদের মতে লন্ডন থেকে ফিরে আসা তারেক রহমানকে আগের চেয়ে ভিন্ন ও পরিণত মনে হচ্ছে, যদিও এখনো অনেকে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
আরও পড়ুন
- নিজের উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দিতে জামায়াত আমিরের চিঠি
- বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা
- চট্টগ্রামে বিএনপি নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা
- জয়নুল আবেদি ফারুকের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা মারা গেছেন
- সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে বিএনপি নেতার দলীয় পদ স্থগিত
- মুক্ত একুশের অনুভূতি ভিন্নরকম : মির্জা ফখরুল
- জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি
- আজ চরমোনাই পীরের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান