1. »
  2. খেলার মাঠ

বিসিবিতে নাজমুল ইসলামের পুনর্বহাল

সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ ১১:২২ এএম | আপডেট: সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ ১১:২২ এএম

বিসিবিতে নাজমুল ইসলামের পুনর্বহাল

ক্রিকেটারদের নিয়ে বেফাঁস মন্তব্যের জেরে পদত্যাগের দাবিতে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) খেলা বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ওই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে স্ট্রাইকের কারণে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে এম নাজমুল ইসলামকে অব্যাহতি দেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বিষয়টি তখন বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছিল। পরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করে খেলা পুনরায় শুরু হয়।

বিপিএল শেষ না হওয়া পর্যন্ত নাজমুল ইসলামের বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনলেও, ২৩ জানুয়ারি বিপিএলের ফাইনাল শেষে ক্রিকেটাররা ছুটিতে গেলে এই ফাঁকে তাঁকে আবারও ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করা হয়। বিসিবি শৃঙ্খলা কমিটির চেয়ারম্যান ফাইয়াজুর রহমান মিতু জানান, শনিবার বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের তৃতীয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন জানান, সভাপতির ক্ষমতাবলে আমিনুল ইসলাম বুলবুল নাজমুল ইসলামকে পুনর্বহাল করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারি মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গণমাধ্যমের সামনে ক্রিকেটারদের নিয়ে শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য করেন এম নাজমুল ইসলাম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি বিসিবি সভাপতির কোরামের একজন পরিচালক। এ কারণেই ক্রিকেটারদের বিরোধিতা সত্ত্বেও তাঁকে পুনর্বহাল করা হয়েছে—এমন অভিযোগও উঠেছে।

তবে বিসিবি ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান ফাইয়াজুর রহমান বলেন, ‘নাজমুল ভাই কারণ দর্শানোর জবাব দিয়েছেন। তাঁর ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হওয়ায় আমরা ইতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছি। সেই প্রতিবেদন বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা হলে তাঁকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত হয়।’

নাজমুল ইসলামের পুনর্বহাল নিয়ে ক্রিকেটারদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কোয়াবের আন্দোলন ভুল ছিল কি না—এ বিষয়ে জানতে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে সিনিয়র সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সভাপতি তাঁর ক্ষমতাবলে নাজমুল ভাইকে পুনর্বহাল করেছেন। কারণ ফিন্যান্স কমিটির দায়িত্ব নিতে কেউ আগ্রহী ছিলেন না। পাশাপাশি মানুষ হিসেবে নাজমুল ভাই সৎ। সবদিক বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে ক্রিকেটারদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি। কোয়াব সভাপতি মিঠুনও মন্তব্য এড়িয়ে যান। এমনকি সাবেক ক্রিকেটাররাও প্রতিক্রিয়া জানাতে অনিচ্ছুক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় দলের এক ক্রিকেটার বলেন, ‘আমরা এখন মবের ভয়ে আছি। কোয়াব সভাপতিকে যেভাবে দেশ-বিদেশ থেকে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়েছে, তা উদ্বেগজনক। এখন কিছু বললে প্রাণনাশের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করতে চাই। নির্বাচিত সরকার এলে পরিস্থিতি হয়তো স্বাভাবিক হবে।’