সময় এসেছে পরিবর্তনের, ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশ বদলানো সম্ভব: তারেক রহমান
রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬ ০২:৩৪ পিএম | আপডেট: রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬ ০২:৩৪ পিএম
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সময় এসেছে পরিবর্তনের। দেশের মানুষ পুরোনো ব্যবস্থার পরিবর্তন চায়—চায় চাকরি, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং জীবনের নিরাপত্তা। দেশকে বদলাতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকতে হবে, যেন আবার কেউ মানুষের ভোটের অধিকার ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে না পারে।
আজ রবিবার (২৫ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে তার বক্তব্য শুরু হয়। যোহরের আজানের সময় তিনি বক্তব্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন, যা তার আগের বক্তব্যগুলোতেও দেখা গেছে।
তারেক রহমান বলেন, “আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি বাংলাদেশকে পরিবর্তনের লক্ষ্যে। অতীতে স্বৈরাচারী আমলে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এখন আবারও নানা ষড়যন্ত্র চলছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে।”
তিনি বলেন, দেশের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য প্রথমেই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিএনপি অতীতে ক্ষমতায় থেকে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে এবং ভবিষ্যতেও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।
দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, “১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দুর্নীতির কারণে দেশ ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এসে প্রমাণ করেছিল—আইন সবার জন্য সমান। অপরাধীর পরিচয় দল দিয়ে নয়, আইনের চোখে অপরাধী হিসেবেই বিচার হবে। বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই মানুষের জন্য কাজ করেছে।”
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “এই কারণেই দেশে এসে আমি বলেছিলাম—‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’। জনগণ যদি আগামী নির্বাচনে আমাদের সুযোগ দেয়, তাহলে শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরি, গণতন্ত্রসহ মানুষের সব মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”
অন্য দলের সমালোচনার পরিবর্তে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী তরুণ। তরুণরা কাজ চায়। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। চট্টগ্রামের ইপিজেডগুলো বিএনপির আমলেই চালু হয়েছিল। ভবিষ্যতে ইপিজেডের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন আনা হবে, যাতে শিক্ষাজীবন শেষে চাকরি খুঁজতে না হয়—নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা শুধু হাসপাতাল বানানোর প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না, আমরা চাই স্বাস্থ্যসেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে।” এ লক্ষ্যে এক লাখ হেলথ কেয়ার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী—তাদের বাদ দিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষাকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে করেছিলেন। এখন সেই শিক্ষিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষকদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, কৃষিই বাংলাদেশের মূল শক্তি। কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে। এজন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে কৃষকরা ঋণ, সারসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবে এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে।
চট্টগ্রামের সঙ্গে নিজের ও পরিবারের আবেগী সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটাই সেই পুণ্যভূমি, যেখান থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং এখানেই তিনি শহীদ হন। এই ভূমিতেই বেগম খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল।”
চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এ অঞ্চলকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা। বিএনপি সরকার গঠন করলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে সমতল ও পাহাড়ে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে একসঙ্গে বসবাস করছে। ১৯৭১ ও ২০২৪ সালে সবাই একসঙ্গে লড়াই করে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। এবার সময় এসেছে একসঙ্গে দেশ পরিবর্তনের। তিনি ভোটারদের ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।”
আরও পড়ুন
- নবনিযুক্ত বিএনপি মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে "আমরা বিএনপি পরিবার"-এর অভিনন্দন
- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
- ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছাড়লেন নাছির উদ্দিন নাছির
- জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচি
- সব ডিলিট করে দেন, তাহলে সব বলছি, জামায়াত এমপির আরেক ভিডিও ভাইরাল
- ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ‘সরি, সরি’ বলে মঞ্চ ছাড়লেন এনসিপি নেতা
- বিলুপ্ত প্রজাতির গাছ বাচাঁতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বৃক্ষরোপণ
- মসজিদে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতের রাজনৈতিক সভা, এলাকাবাসীর নিন্দা