সব শিক্ষার্থী
শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন নতুন বই পাচ্ছে না
বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬ ১২:১৩ পিএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬ ১২:১৩ পিএম
খ্রিষ্টীয় নববর্ষের প্রথম দিন আজ বৃহস্পতিবার। দেশের নতুন শিক্ষাবর্ষেরও প্রথম দিন আজ। তবে এদিন মাধ্যমিকের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী সব পাঠ্যবই হাতে পাবে না। কেননা, গত বছরের শেষ দিন গতকাল বুধবার বিকেল পর্যন্ত মাধ্যমিকের ২৭ শতাংশের বেশি বই সরবরাহ করতে পারেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
অবশ্য এনসিটিবির কর্মকর্তারা আশা করছেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা সব বই হাতে পাবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শিক্ষার্থীদের সব বিষয়ের সব বই হাতে পেতে পুরো জানুয়ারি মাস লেগে যেতে পারে। এমনকি তা ফেব্রুয়ারিতেও গড়াতে পারে।
দেড় দশক ধরে শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন ঘটা করে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যে বই তুলে দিচ্ছিল এনসিটিবি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে নতুন বই হাতে নিয়ে খুশি হয়ে বাড়ি ফিরত শিক্ষার্থীরা। এ জন্য নতুন বছরের প্রথম দিন দেশজুড়ে শিক্ষাঙ্গনে উৎসবের আমেজ দেখা যেত। তবে দু-তিন বছর ধরে এর ব্যত্যয় ঘটেছে। বিদায়ী বছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যের সব পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে প্রায় তিন মাস লেগে যায়। এতে পড়াশোনায় ক্ষতির মুখে পড়ে শিক্ষার্থীরা; সমালোচনার মুখে পড়ে সরকারও।
এই অভিজ্ঞতা থেকে এবার পাঠ্যবই ছাপার প্রক্রিয়া আগেভাগেই শুরু করা হয়েছিল। গত নভেম্বরের মধ্যে সব পাঠ্যবই ছাপিয়ে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী দরপত্রের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করে মূল্যায়নের কাজও শেষ করা হয়েছিল। তবে শেষ সময়ে (নভেম্বরে) ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবই ছাপার দরপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ফলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে বই ছাপানোর কাজ শুরু হয়। এ কারণে এবারও মাধ্যমিকের সব পাঠ্যবই সময়মতো সরবরাহ করতে পারছে না এনসিটিবি।
অবশ্য এনসিটিবির কর্মকর্তারা আশা করছেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা সব বই হাতে পাবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শিক্ষার্থীদের সব বিষয়ের সব বই হাতে পেতে পুরো জানুয়ারি মাস লেগে যেতে পারে। এমনকি তা ফেব্রুয়ারিতেও গড়াতে পারে।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, নতুন শিক্ষাবর্ষে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য প্রাথমিক স্তরে মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ৮ কোটি ৫৯ লাখের বেশি। এরই মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই সব বই পাবে। তবে সংকট মাধ্যমিক স্তরের বই নিয়ে।
মাধ্যমিক স্তরে (ইবতেদায়িসহ) মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪। এর মধ্যে গতকাল বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে ৭২ দশমিক ৭১ শতাংশ বই। যদিও গতকাল পর্যন্ত ছাপা হয়েছে প্রায় ৮৮ শতাংশ বই।
নিয়মানুযায়ী, পাঠ্যবই ছাপার পর সেগুলো বাঁধাই করা হয়। এরপর সরবরাহের আগে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরবরাহ-পূর্ব পরিদর্শন (পিডিআই) সম্পন্ন করতে হয়। পিডিআইসহ আনুষঙ্গিক সব কাজ শেষে বই মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়। এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরের ৮১ দশমিক ১৩ শতাংশ বইয়ের পিডিআই সম্পন্ন হয়েছে।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, মাধ্যমিকের বইয়ের মধ্যে ষষ্ঠ এবং নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপা ও বিতরণের কাজ তুলনামূলকভাবে এগিয়ে আছে। ইবতেদায়ি স্তরের বই নিয়েও সংকট নেই। তবে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই ছাপা ও সরবরাহের কাজ পিছিয়ে রয়েছে। সপ্তম শ্রেণির মোট বইয়ের সংখ্যা ৪ কোটি ১৫ লাখের বেশি এবং অষ্টম শ্রেণির মোট পাঠ্যবই ৪ কোটি ২ লাখের বেশি।
মাধ্যমিক স্তরে (ইবতেদায়িসহ) মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪। এর মধ্যে গতকাল বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে ৭২ দশমিক ৭১ শতাংশ বই। যদিও গতকাল পর্যন্ত ছাপা হয়েছে প্রায় ৮৮ শতাংশ বই।
আরও পড়ুন
- ২০২৬ এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ
- পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই চলছে জকসু নির্বাচন
- জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে
- জাবির হল থেকে বিদেশি মদসহ শিক্ষার্থী আটক
- বেগম খালেদা জিয়া’র কবরে শেকৃবি ‘বৃহত্তর বগুড়া সমিতি’র শ্রদ্ধাঞ্জলি
- বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে জকসু নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা
- নতুন পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ
- ঢাবির বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরিক্ষা আজ